ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
দিনাজপুর ফুলবাড়ী সীমান্তে ৫৫৮ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ হিলি এলএসডি গোডাউন থেকে সরকারি ধান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপমহাদেশে আবার বিতর্কিত জাতপাত প্রথার পদধ্বনি, শঙ্কিত মানুষ পুরানা ঢাকার ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের আসল রহস্য ফাঁস: প্রবীণ সাংবাদিকদের ভাতা দ্রুত কার্যকরের দাবি জাতীয় প্রেস ক্লাব আঙ্গিনায় পথসভা ও র‌্যালি “ভিউ বাণিজ্য : সামাজিক পুঁজি” ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ বন্দি খুলনার সোনাডাঙ্গায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন কারখানা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পুরানা ঢাকার ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের আসল রহস্য ফাঁস:

৩.৭৬ শতাংশ ভাড়াটিয়ার জমিতে পৈতৃক বাড়ির দাবি, আপিল বিভাগের রায়ের জমি দখল করে আছেন কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগ নেতা রাজু

কোতোয়ালী থানাধীন ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের বাড়ি নিয়ে গত ১ অক্টোবর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যে আবেগঘন সংবাদ সম্মেলন হলো, তার আড়ালের আসল রহস্য এবার বেরিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী সেজে সংবাদ সম্মেলন করা আনিসুল বারী রাজু আসলে কোনো বৈধ মালিক নন, বরং তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবে আপিল বিভাগের রায়ে পাওয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির জমি দখল করে রেখেছেন – এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে।

*এলাকাবাসীর প্রশ্ন – ১৯৬১ সালের দলিলে জমির পরিমাণ কোথায়?*

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান নথিপত্র তুলে ধরে বলেন, এই বাড়ির আসল সিএস মালিক ছিলেন শ্রী শশী। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তিনি ভারতে চলে গেলে পুরো বাড়িই শত্রু সম্পত্তি হয়ে যায়।

পরে ৩.৭৬ শতাংশ জমি ৩ জন ভাড়াটিয়ার নামে এসএ রেকর্ড হয়, তারাও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় ভারতে চলে যান। সেই ফাঁকা জমিতে ঢুকে পড়েন রাজুর বাবা এম এ আউয়াল। তিনি একটি *পরিমাণবিহীন ভুয়া বায়নাপত্র বানিয়ে একতরফা রায়ে দলিল রেজিস্ট্রি* করেন, যে দলিলে আজও জমির পরিমাণ লেখা নেই।

সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, এম এ আউয়াল নিজেই ১৯৬৭ সালে সরকারের *EP Case No. 25/67* মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে এই জমি শত্রু সম্পত্তি থেকে অবমুক্তি চেয়েছিলেন। অবমুক্তি পাননি। অর্থাৎ তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন এটি সরকারি শত্রু সম্পত্তি।

*তাহলে বৈধ মালিক কে?*

সরকার এই সম্পত্তি বিভিন্ন জনকে লিজ দেয়। লিজ নবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টে যায় এবং জেলা জজ আদালতের অধীনে দেওয়ার রায় হয়। পরবর্তীতে *সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ* ৮/১ এর আংশিক জেলা জজ আদালতকে দেন। তৎকালীন জেলা জজ কুদ্দুস জামান [বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি] দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সেই জমি ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে হস্তান্তর করেন। বার সমিতি সকল লিজ গ্রহীতার কাছ থেকে বুঝে নিয়ে আরও ৩ কাঠা জমি ক্রয় করে।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে বর্তমান বৈধ মালিক ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও জেলা জজ আদালত।

*আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দখল?*

সমিতির অভিযোগ, আনিসুল বারী রাজু *কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি*। ২০১৬ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী নেতাদের ছত্রছায়ায় আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে তিনি বার সমিতির কল্যাণে দেওয়া জমি জবর দখল করে রেখেছেন। এখন গণতান্ত্রিক সরকার আসার পর আইনজীবীরা জমি উদ্ধারে সোচ্চার হতেই তিনি উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে বার সমিতির বিরুদ্ধে উচ্ছেদের অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়া তার দেখানো এসএ পর্চায় *শত্রু সম্পত্তির উল্লেখ নেই*, যা প্রমাণ করে পর্চাটি জাল। কারণ সরকারি ‘ক’ তালিকাভুক্ত শত্রু সম্পত্তির পর্চায় তা উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক।

*এলাকাবাসী যা বলছে:*

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ৮/১ বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই পরিচিত। হঠাৎ করে পৈতৃক বাড়ি দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করায় তারাও হতবাক।

বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১৩৩৮৬/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন থাকায় আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে, তবে নথিপত্র বলছে সংবাদ সম্মেলনকারীদের দাবি ভুয়া।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

দিনাজপুর ফুলবাড়ী সীমান্তে ৫৫৮ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ

পুরানা ঢাকার ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের আসল রহস্য ফাঁস:

আপলোড সময় ০২:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

৩.৭৬ শতাংশ ভাড়াটিয়ার জমিতে পৈতৃক বাড়ির দাবি, আপিল বিভাগের রায়ের জমি দখল করে আছেন কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগ নেতা রাজু

কোতোয়ালী থানাধীন ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের বাড়ি নিয়ে গত ১ অক্টোবর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যে আবেগঘন সংবাদ সম্মেলন হলো, তার আড়ালের আসল রহস্য এবার বেরিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী সেজে সংবাদ সম্মেলন করা আনিসুল বারী রাজু আসলে কোনো বৈধ মালিক নন, বরং তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবে আপিল বিভাগের রায়ে পাওয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির জমি দখল করে রেখেছেন – এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে।

*এলাকাবাসীর প্রশ্ন – ১৯৬১ সালের দলিলে জমির পরিমাণ কোথায়?*

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান নথিপত্র তুলে ধরে বলেন, এই বাড়ির আসল সিএস মালিক ছিলেন শ্রী শশী। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তিনি ভারতে চলে গেলে পুরো বাড়িই শত্রু সম্পত্তি হয়ে যায়।

পরে ৩.৭৬ শতাংশ জমি ৩ জন ভাড়াটিয়ার নামে এসএ রেকর্ড হয়, তারাও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় ভারতে চলে যান। সেই ফাঁকা জমিতে ঢুকে পড়েন রাজুর বাবা এম এ আউয়াল। তিনি একটি *পরিমাণবিহীন ভুয়া বায়নাপত্র বানিয়ে একতরফা রায়ে দলিল রেজিস্ট্রি* করেন, যে দলিলে আজও জমির পরিমাণ লেখা নেই।

সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, এম এ আউয়াল নিজেই ১৯৬৭ সালে সরকারের *EP Case No. 25/67* মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে এই জমি শত্রু সম্পত্তি থেকে অবমুক্তি চেয়েছিলেন। অবমুক্তি পাননি। অর্থাৎ তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন এটি সরকারি শত্রু সম্পত্তি।

*তাহলে বৈধ মালিক কে?*

সরকার এই সম্পত্তি বিভিন্ন জনকে লিজ দেয়। লিজ নবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টে যায় এবং জেলা জজ আদালতের অধীনে দেওয়ার রায় হয়। পরবর্তীতে *সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ* ৮/১ এর আংশিক জেলা জজ আদালতকে দেন। তৎকালীন জেলা জজ কুদ্দুস জামান [বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি] দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সেই জমি ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে হস্তান্তর করেন। বার সমিতি সকল লিজ গ্রহীতার কাছ থেকে বুঝে নিয়ে আরও ৩ কাঠা জমি ক্রয় করে।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে বর্তমান বৈধ মালিক ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও জেলা জজ আদালত।

*আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দখল?*

সমিতির অভিযোগ, আনিসুল বারী রাজু *কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি*। ২০১৬ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী নেতাদের ছত্রছায়ায় আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে তিনি বার সমিতির কল্যাণে দেওয়া জমি জবর দখল করে রেখেছেন। এখন গণতান্ত্রিক সরকার আসার পর আইনজীবীরা জমি উদ্ধারে সোচ্চার হতেই তিনি উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে বার সমিতির বিরুদ্ধে উচ্ছেদের অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়া তার দেখানো এসএ পর্চায় *শত্রু সম্পত্তির উল্লেখ নেই*, যা প্রমাণ করে পর্চাটি জাল। কারণ সরকারি ‘ক’ তালিকাভুক্ত শত্রু সম্পত্তির পর্চায় তা উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক।

*এলাকাবাসী যা বলছে:*

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ৮/১ বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই পরিচিত। হঠাৎ করে পৈতৃক বাড়ি দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করায় তারাও হতবাক।

বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১৩৩৮৬/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন থাকায় আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে, তবে নথিপত্র বলছে সংবাদ সম্মেলনকারীদের দাবি ভুয়া।