ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’য়ের লঞ্চিং পাটকেলঘাটার স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান: ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা, প্রতারক ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ ময়মনসিংহের খাদ্য পরিদর্শক কামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ  তালায় দর্জি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন তালায় পানিতে ডুবে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু রাঙ্গুনিয়ায় অনুমোদনহীন “স’ মিলের” মহোৎসব: উজাড় হচ্ছে সরকারি বনভূমি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশঃ আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জিনাত আমীনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: মনোনয়ন জমা দিলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন আইন ও অধিকার এইড ফাউন্ডেশনের ‘উইমেন্স উইংস’ নারী শাখার সাব-কমিটি গঠন গাজীপুরের রিসোর্টে ‘SONIC PULSE’ ডিজে পার্টিতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৪

রাঙ্গুনিয়ায় অনুমোদনহীন “স’ মিলের” মহোৎসব: উজাড় হচ্ছে সরকারি বনভূমি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ “করাত কল” ( sawmill)। স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও গ্রামীণ লোকালয়ের পাশে এসব করাত কল স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার বনভুমি, যার কারণে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চন্দ্রঘোনা, কোদালা, পদুয়া, পোমরা, এবং মরিয়মনগর,শিলক,বেতাগী, সরফভাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই দিন-রাত চলছে গাছ চিরাইয়ের কাজ। বন আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো করাত কল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন বটের তল, বনের প্রবেশমুখ এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই নিয়মকে তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ব সরফভাটার করাত কল মালিক আওয়ামী লীগ নেতা দিদার বলেন, বিগত সময় আমরা ব্যবসা করেছি তখন কিছু হয় নি,এখন কেন সমস্যা হবে? আমরা এগুলো কাটা পাহাড় এর পলাশ থেকে নবায়ন করি, সে বলেছে কোন ডকুমেন্টস লাগবেনা, আর যদি কোন প্রশাসন বা সাংবাদিক চাই আমার সাথে কথা বলতে বলবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অবৈধ করাত কলগুলোকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ফরেস্ট বিটসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনের মূল্যবান সেগুন, গামারি ও গর্জন গাছ কেটে এই মিলগুলোতে এনে ফাড়া হচ্ছে। অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয় সামাজিক কর্মী ও বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন এসব করাত কলের কারণে শুধু যে বনের গাছপালা শেষ হচ্ছে তা নয়, বরং মিলের তীব্র শব্দদূষণ ও কাঠের গুঁড়োর কারণে সংলগ্ন লোকালয়ের সাধারণ মানুষ ও শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ করাত কল এবং বনভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জনবল সংকট এবং চোরাকারবারিদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দিন বলেন লাইসেন্স বিহীন অনেক “করাত কল” আছে সেটা আমিও শুনেছি, আগে কিভাবে করতো তা আমি জানি না,তবে এখন আর অবৈধ “করাত কল” করতে দেওয়া হবে না। অবৈধ করাত কল উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কামনা করছে বন বিভাগ

রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষের দাবি, উপজেলার পরিবেশ ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার্থে অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বন বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে এই অবৈধ করাত কলগুলো সিলগালা করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’য়ের লঞ্চিং

রাঙ্গুনিয়ায় অনুমোদনহীন “স’ মিলের” মহোৎসব: উজাড় হচ্ছে সরকারি বনভূমি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল

আপলোড সময় ০৯:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ “করাত কল” ( sawmill)। স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও গ্রামীণ লোকালয়ের পাশে এসব করাত কল স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার বনভুমি, যার কারণে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চন্দ্রঘোনা, কোদালা, পদুয়া, পোমরা, এবং মরিয়মনগর,শিলক,বেতাগী, সরফভাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই দিন-রাত চলছে গাছ চিরাইয়ের কাজ। বন আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো করাত কল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন বটের তল, বনের প্রবেশমুখ এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই নিয়মকে তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ব সরফভাটার করাত কল মালিক আওয়ামী লীগ নেতা দিদার বলেন, বিগত সময় আমরা ব্যবসা করেছি তখন কিছু হয় নি,এখন কেন সমস্যা হবে? আমরা এগুলো কাটা পাহাড় এর পলাশ থেকে নবায়ন করি, সে বলেছে কোন ডকুমেন্টস লাগবেনা, আর যদি কোন প্রশাসন বা সাংবাদিক চাই আমার সাথে কথা বলতে বলবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অবৈধ করাত কলগুলোকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ফরেস্ট বিটসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনের মূল্যবান সেগুন, গামারি ও গর্জন গাছ কেটে এই মিলগুলোতে এনে ফাড়া হচ্ছে। অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয় সামাজিক কর্মী ও বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন এসব করাত কলের কারণে শুধু যে বনের গাছপালা শেষ হচ্ছে তা নয়, বরং মিলের তীব্র শব্দদূষণ ও কাঠের গুঁড়োর কারণে সংলগ্ন লোকালয়ের সাধারণ মানুষ ও শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ করাত কল এবং বনভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জনবল সংকট এবং চোরাকারবারিদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দিন বলেন লাইসেন্স বিহীন অনেক “করাত কল” আছে সেটা আমিও শুনেছি, আগে কিভাবে করতো তা আমি জানি না,তবে এখন আর অবৈধ “করাত কল” করতে দেওয়া হবে না। অবৈধ করাত কল উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কামনা করছে বন বিভাগ

রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষের দাবি, উপজেলার পরিবেশ ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার্থে অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বন বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে এই অবৈধ করাত কলগুলো সিলগালা করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।