ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন

মার্কিন ডলারের বিপরীতে শুক্রবার ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। দিনের শুরুতে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৯৬ দশমিক ১৪ রুপিতে । লেনদেন শেষে তা ৯৫ দশমিক ৯৭-এ স্থির হয়। এই প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে দামের গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করলো রুপি।

প্রতি ডলার ৯৬ রুপিতে বিক্রি হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে ধরা হয়। এই স্তর অতিক্রমের অর্থ রুপির মান ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া। চলতি হিসাব ঘাটতি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মুদ্রাটির দরপতন আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএফএ গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক গোয়েঙ্কা বলেন, “বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল ডলার-রুপি জুটিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়েছে, আরেকদল ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো পদক্ষেপ বা হঠাৎ বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কখন সেই পরিবর্তন আসবে, তা নির্ধারণ করা খুব কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “মুদ্রাবাজারের বর্তমান ওঠানামার মধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে। রুপির ওপর অবিরাম চাপ বাড়ছে। বর্তমানে একমাত্র ভরসা হচ্ছে আরবিআইয়ের ডলার সরবরাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিলে ডলার-রুপির বিনিময় হার আরও দ্রুত বেড়ে যাবে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের ওপর আবারো হামলা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অর্থলগ্নির আগ্রহ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। এরফলে মার্কিন বন্ড এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ১১০ ডলারের কাছাকাছি। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রুপির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন

আপলোড সময় ১২:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মার্কিন ডলারের বিপরীতে শুক্রবার ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। দিনের শুরুতে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৯৬ দশমিক ১৪ রুপিতে । লেনদেন শেষে তা ৯৫ দশমিক ৯৭-এ স্থির হয়। এই প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে দামের গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করলো রুপি।

প্রতি ডলার ৯৬ রুপিতে বিক্রি হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে ধরা হয়। এই স্তর অতিক্রমের অর্থ রুপির মান ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া। চলতি হিসাব ঘাটতি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মুদ্রাটির দরপতন আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএফএ গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক গোয়েঙ্কা বলেন, “বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল ডলার-রুপি জুটিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়েছে, আরেকদল ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো পদক্ষেপ বা হঠাৎ বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কখন সেই পরিবর্তন আসবে, তা নির্ধারণ করা খুব কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “মুদ্রাবাজারের বর্তমান ওঠানামার মধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে। রুপির ওপর অবিরাম চাপ বাড়ছে। বর্তমানে একমাত্র ভরসা হচ্ছে আরবিআইয়ের ডলার সরবরাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিলে ডলার-রুপির বিনিময় হার আরও দ্রুত বেড়ে যাবে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের ওপর আবারো হামলা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অর্থলগ্নির আগ্রহ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। এরফলে মার্কিন বন্ড এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ১১০ ডলারের কাছাকাছি। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রুপির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।