ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সংগীতচর্চার মধ্য দিয়েই মানবসেবা করতে চান শিল্পী রানী শেখ এলিজা সিআইডি কনস্টেবল মো: রমজানের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের বাইরের ফুটপাত দখল করে সড়ক অবরোধ, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তোলপাড়! সাংবাদিক শাকিলের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন উপেক্ষিত মন্ত্রীর নির্দেশ ! “ বাঁশকাণ্ডে কাঁপছে বাসাইল, অধরা ঠিকাদার জাহাঙ্গীর ” দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সাব- রেজিস্ট্রারদের লটারিতে বদলি ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দুদকের অভিযান তালায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা : আটক ৩ মাদকের তথ্য দেওয়ায় তালায় গ্রাম পুলিশকে মারধর, জিডি ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও বাংলাদেশি যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে চরমপন্থি নাসিম নিহত

দেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা: নতুন সংকটে কর্মমুখী জীবন

হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত, শিল্পখাতে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি। একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মমুখী মানুষের জীবনে নেমে এসেছে নতুন চাপ ও উদ্বেগ।
পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ জোগান দিয়ে আসছে। এই খাতে প্রায় লাখ লাখ শ্রমিক সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, অর্ডার সংকট এবং ব্যবসায়িক চাপের কারণে অনেক কারখানা কার্যক্রম সীমিত করছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
শ্রমিকরা বলছেন, বছরের পর বছর কাজ করার পর হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকের বেতন-ভাতা, পাওনা টাকা ও চাকরি ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক শিল্প শুধু রপ্তানি আয় নয়, দেশের কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় ক্ষেত্র। তাই এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট দীর্ঘ হলে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মমুখী মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পোশাক শিল্পের নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সংগীতচর্চার মধ্য দিয়েই মানবসেবা করতে চান শিল্পী রানী শেখ এলিজা

দেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা: নতুন সংকটে কর্মমুখী জীবন

আপলোড সময় ০৩:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত, শিল্পখাতে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি। একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মমুখী মানুষের জীবনে নেমে এসেছে নতুন চাপ ও উদ্বেগ।
পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ জোগান দিয়ে আসছে। এই খাতে প্রায় লাখ লাখ শ্রমিক সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, অর্ডার সংকট এবং ব্যবসায়িক চাপের কারণে অনেক কারখানা কার্যক্রম সীমিত করছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
শ্রমিকরা বলছেন, বছরের পর বছর কাজ করার পর হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকের বেতন-ভাতা, পাওনা টাকা ও চাকরি ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক শিল্প শুধু রপ্তানি আয় নয়, দেশের কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় ক্ষেত্র। তাই এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট দীর্ঘ হলে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মমুখী মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পোশাক শিল্পের নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।