ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও উন্নয়নমুখী দাবি খুলনা চেম্বারের তালায় জলবায়ু অভিযোজন নেটওয়ার্কের অর্ধবার্ষিক সভা মশার পেছনে কোটি টাকা: বিদেশ সফরে ব্যয়, সেই অর্থে কত ওষুধ ও স্প্রে মেশিন কেনা যেত? কুয়েটে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা: বিচার নাকি হয়রানি? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ঠাকুরগাঁও জেলার মোটরসাইকেল চুরির হোতা আ.লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আটক জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে খুলনার কয়রায় ৩০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ অবশেষে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন

মার্কিন ডলারের বিপরীতে শুক্রবার ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। দিনের শুরুতে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৯৬ দশমিক ১৪ রুপিতে । লেনদেন শেষে তা ৯৫ দশমিক ৯৭-এ স্থির হয়। এই প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে দামের গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করলো রুপি।

প্রতি ডলার ৯৬ রুপিতে বিক্রি হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে ধরা হয়। এই স্তর অতিক্রমের অর্থ রুপির মান ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া। চলতি হিসাব ঘাটতি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মুদ্রাটির দরপতন আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএফএ গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক গোয়েঙ্কা বলেন, “বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল ডলার-রুপি জুটিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়েছে, আরেকদল ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো পদক্ষেপ বা হঠাৎ বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কখন সেই পরিবর্তন আসবে, তা নির্ধারণ করা খুব কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “মুদ্রাবাজারের বর্তমান ওঠানামার মধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে। রুপির ওপর অবিরাম চাপ বাড়ছে। বর্তমানে একমাত্র ভরসা হচ্ছে আরবিআইয়ের ডলার সরবরাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিলে ডলার-রুপির বিনিময় হার আরও দ্রুত বেড়ে যাবে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের ওপর আবারো হামলা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অর্থলগ্নির আগ্রহ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। এরফলে মার্কিন বন্ড এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ১১০ ডলারের কাছাকাছি। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রুপির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন

আপডেট সময় ১২:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মার্কিন ডলারের বিপরীতে শুক্রবার ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। দিনের শুরুতে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৯৬ দশমিক ১৪ রুপিতে । লেনদেন শেষে তা ৯৫ দশমিক ৯৭-এ স্থির হয়। এই প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে দামের গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করলো রুপি।

প্রতি ডলার ৯৬ রুপিতে বিক্রি হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে ধরা হয়। এই স্তর অতিক্রমের অর্থ রুপির মান ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া। চলতি হিসাব ঘাটতি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মুদ্রাটির দরপতন আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএফএ গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক গোয়েঙ্কা বলেন, “বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল ডলার-রুপি জুটিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়েছে, আরেকদল ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো পদক্ষেপ বা হঠাৎ বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কখন সেই পরিবর্তন আসবে, তা নির্ধারণ করা খুব কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “মুদ্রাবাজারের বর্তমান ওঠানামার মধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে। রুপির ওপর অবিরাম চাপ বাড়ছে। বর্তমানে একমাত্র ভরসা হচ্ছে আরবিআইয়ের ডলার সরবরাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিলে ডলার-রুপির বিনিময় হার আরও দ্রুত বেড়ে যাবে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের ওপর আবারো হামলা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অর্থলগ্নির আগ্রহ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। এরফলে মার্কিন বন্ড এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ১১০ ডলারের কাছাকাছি। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রুপির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।