ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

সরকারি খাল খননের মাটি যাচ্ছে ব্যক্তির জমিতে, কোটচাঁদপুরে তোলপাড়

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের কাগমারি গ্রামে সরকারি খাল খননের মাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের আওতায় খনন করা খালের মাটি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে নিজের ফসলি জমিতে ভরাট করছেন গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সিরাজ মিয়া। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বলুহর বাঁওড় সংলগ্ন সরকারি খাল থেকে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে মাটি তুলে পাশের একটি নিচু জমিতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই জমিটি সিরাজ মিয়ার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং সরকারি প্রকল্পের মাটি সেখানে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে এ কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাটি তো কোথাও না কোথাও ফেলতেই হতো। তাই আমার নিচু জমিতে ফেলছি। এতে কারো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।”
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। সেই মাটি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা হলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, “সরকারি সম্পদ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনবিরোধী। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে এ ধরনের অপকর্মে উৎসাহিত হবে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “দিনের আলোয় ভেকু মেশিন চালিয়ে সরকারি মাটি নিজের জমিতে নেওয়া হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।” এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি সম্পদের কোনো ধরনের অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

সরকারি খাল খননের মাটি যাচ্ছে ব্যক্তির জমিতে, কোটচাঁদপুরে তোলপাড়

আপলোড সময় ০৬:২৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের কাগমারি গ্রামে সরকারি খাল খননের মাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের আওতায় খনন করা খালের মাটি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে নিজের ফসলি জমিতে ভরাট করছেন গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সিরাজ মিয়া। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বলুহর বাঁওড় সংলগ্ন সরকারি খাল থেকে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে মাটি তুলে পাশের একটি নিচু জমিতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই জমিটি সিরাজ মিয়ার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং সরকারি প্রকল্পের মাটি সেখানে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে এ কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাটি তো কোথাও না কোথাও ফেলতেই হতো। তাই আমার নিচু জমিতে ফেলছি। এতে কারো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।”
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। সেই মাটি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা হলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, “সরকারি সম্পদ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনবিরোধী। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে এ ধরনের অপকর্মে উৎসাহিত হবে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “দিনের আলোয় ভেকু মেশিন চালিয়ে সরকারি মাটি নিজের জমিতে নেওয়া হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।” এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি সম্পদের কোনো ধরনের অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।