ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাছে বেঁধে তরুণকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি “পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা”— ওসির বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চুয়াডাঙ্গার বাড়াদী সীমান্তে নারী শিশু সহ আটক ১০ কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার,পুলিশের বড় সাফল্য উচ্চাভিলাষী নয়, স্বস্তির বাজেট চাইলেন অর্থনীতিবিদরা তালার জেএনএ পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ৯৮ ব্যাচের রি-ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত তালায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ মরে সাবাড় তালায় জমি দখল করে ঘর নির্মান চেষ্টা : পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে কাঙ্খিত পরিবর্তন হয়নি : এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম ঈদে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: তালায় ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি

গাছে বেঁধে তরুণকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে অমানবিক উল্লেখ করে সচেতন মহল দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মারধরের শিকার তরুণের নাম মো. তুষার (১৮)। তিনি নগরীর কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা তুষারকে দুই যুবক লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পেটাচ্ছেন। মারধর শুরু করার আগে একজনকে বলতে শোনা যায়, “চালু করে দিয়েছি”। ক্যামেরা চালু হওয়ার পরপরই শুরু হয় নির্যাতন। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুষারকে অন্তত ১৪ বার লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
নির্যাতনের সময় তুষার ব্যথায় চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “হৃদয়, একটু দাঁড়াও ভাইয়া।” কিন্তু তাঁর আকুতি উপেক্ষা করে মারধর অব্যাহত রাখা হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। অনেকেই এ ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জঘন্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, আহত তুষারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।
ওসি বলেন, “কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কাউকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া—উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত, কোনোভাবেই প্রকাশ্যে নির্যাতন বা গণপিটুনির মাধ্যমে নয়।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে আইনের শাসনের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করে এবং বিচারবহির্ভূত সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। তাই ভিডিওতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পর দোষী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অমানবিক ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাছে বেঁধে তরুণকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

গাছে বেঁধে তরুণকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

আপডেট সময় ০৩:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

রাজশাহীতে এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে অমানবিক উল্লেখ করে সচেতন মহল দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মারধরের শিকার তরুণের নাম মো. তুষার (১৮)। তিনি নগরীর কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা তুষারকে দুই যুবক লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পেটাচ্ছেন। মারধর শুরু করার আগে একজনকে বলতে শোনা যায়, “চালু করে দিয়েছি”। ক্যামেরা চালু হওয়ার পরপরই শুরু হয় নির্যাতন। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুষারকে অন্তত ১৪ বার লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
নির্যাতনের সময় তুষার ব্যথায় চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “হৃদয়, একটু দাঁড়াও ভাইয়া।” কিন্তু তাঁর আকুতি উপেক্ষা করে মারধর অব্যাহত রাখা হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। অনেকেই এ ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জঘন্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, আহত তুষারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।
ওসি বলেন, “কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কাউকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া—উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত, কোনোভাবেই প্রকাশ্যে নির্যাতন বা গণপিটুনির মাধ্যমে নয়।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে আইনের শাসনের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করে এবং বিচারবহির্ভূত সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। তাই ভিডিওতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পর দোষী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অমানবিক ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।