মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যুকে নিয়ে যে খবরটি ভাইরাল হয়েছে, তা মিথ্যা এবং বানোয়াট। উক্ত নারী দীর্ঘ দিন ধরে সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) রোগে আক্রান্ত ছিলেন । নিজের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঘরে কাউকে ঢুকতে দিতেন না এবং সন্দেহবশত বাসার কাজের লোকদেরও বের করে দিয়েছিলেন। এই রোগের রুগী সব সময় আতংকে থাকে তার নিজের লোকজন তাকে মেরে ফেলবে । ভাইরাল হওয়া তথ্যে বলা হয়েছে তিনি ৭ দিন মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন, যা ভুল । তিনি গত রবিবার মৃত্যুবরণ করেন । তার সন্তানরা সব সময় তার খোঁজ রাখত । তার ছোট ছেলে ও ছেলের বউ তাকে নিয়মিত দেখাশোনা করতেন এবং শেষ দুই বছর তিনি তার মেয়ের সঙ্গেই ছিলেন। ঈদের দিনও তার ছেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি । তার মৃত্যুসংবাদ প্রতিবেশীরা পুলিশকে দেয়নি । একজন নার্স তার রুমের পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দেন । ইন্টারনেটে তার মৃতদেহ পঁচে যাওয়া বা পোকা জন্মানোর যে গল্প ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট। এটি একটি মানসিক অসুস্থতাজনিত জটিলতা থেকে উদ্ভূত ঘটনা, যাকে ভিন্ন রূপ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে শুধু মাত্র ভাইরাল হওয়ার মন মানষিকতা থেকে যা আমার মতে অপসাংবাদিকতা বটে যাতে একটা সম্মানীয় পরিবার দেশ ও সমাজের কাছে হেনস্তা হচ্ছে । এ পর্যন্ত নেটে প্রচারিত অনেক সংবাদেরই সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি । মরিয়ম মান্নান থেকে শুরু করে এই সংবাদ পর্যন্ত কোন সংবাদের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি । প্রতিটি ঘটনা আমাদের হীন মন মানষিকতা এবং কান্ডজ্ঞানহীন মূর্খতার পরিচয় বহন করে । মনে রাখতে হবে এই ধরণের মিডিয়া ট্রায়ালের খপ্পরে আমরাও যে কোন সময় পরতে পারি তাই সত্যতা যাচাই না করে কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে যেন আমরা বিরত থাকি ।
লেখক- লায়ন গোলাম সারোয়ার মানিক, চেয়াম্যান- প্রযুক্তি ও প্রজন্ম ফাউন্ডেশন সোশ্যাল ওয়ার্কার, ডেমোষ্টিক ভায়োলেন্স ।
লায়ন গোলাম সারোয়ার মানিক 

























