ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি: বাংলাদেশসহ ১৭টি অঞ্চল হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে

জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া” বলতে পুরো দেশ বা অঞ্চল হঠাৎ বিলীন হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হচ্ছে না; বরং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূল ডুবে যাওয়া, বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের ঝুঁকিকে বোঝানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল, ঘনবসতি এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে উপকূলের নিচু এলাকাগুলোতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া এবং মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা যেমন খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকা ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করছে। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ত পানির আগ্রাসন মানুষের বসতি ও কৃষির ওপর চাপ তৈরি করছে।
রিপোর্টে ঝুঁকির কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি
বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ
বন উজাড় ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সমুদ্রঘেঁষা বহু দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চল একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করা গেলে ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশ্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো যাবে কি না, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হারিয়ে যেতে থাকা ভূমি ও পরিবর্তিত পৃথিবীর বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি: বাংলাদেশসহ ১৭টি অঞ্চল হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে

আপলোড সময় ০৯:০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া” বলতে পুরো দেশ বা অঞ্চল হঠাৎ বিলীন হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হচ্ছে না; বরং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূল ডুবে যাওয়া, বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের ঝুঁকিকে বোঝানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল, ঘনবসতি এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে উপকূলের নিচু এলাকাগুলোতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া এবং মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা যেমন খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকা ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করছে। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ত পানির আগ্রাসন মানুষের বসতি ও কৃষির ওপর চাপ তৈরি করছে।
রিপোর্টে ঝুঁকির কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি
বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ
বন উজাড় ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সমুদ্রঘেঁষা বহু দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চল একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করা গেলে ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশ্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো যাবে কি না, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হারিয়ে যেতে থাকা ভূমি ও পরিবর্তিত পৃথিবীর বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।