ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরা কলারোয়ায় জয়নগরে উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ বক্তব্য বিকৃতির শিকার সাতক্ষীরার ডিসি, খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে খুলনায় রূপান্তরের আলোচনা সভা বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি দপ্তরের প্রধান সরকারি চৌধুরী রহমান মাহফুজের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দৌলতদিয়া মাদক উদ্ধারের নামে ভ্রাম্যমান আদালতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ খুলনায় জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন  অবহিতকরন ও পরিকল্পনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনায় গর্ভবতী মায়েদের সরকারি ভাতা প্রদান সংক্রান্ত ফরম বিতরণ করেন  কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনায় নিজ বাড়িতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা থানা হেফাজতে কেডিএ চেয়ারম্যান এস. এম. শফিকুল আলম মনার সাথে সামাজিক সংগঠন সিইউসির শুভেচ্ছা বিনিময় নড়াইলে আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন খুলনা রেঞ্জ কমান্ডার
কাগজে সড়ক, মাঠে নেই কাজ; তিন অর্থবছরে কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

সাতক্ষীরা কলারোয়ায় জয়নগরে উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও বাজার উন্নয়নের নামে গত তিন অর্থবছরে সরকারি তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব মিলছে না। কোথাও নামমাত্র কাজ, কোথাও কোনো কাজই নেই। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “উন্নয়ন হয়েছে শুধু কাগজে, টাকা গেছে অন্যখাতে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, শ্মশান, মন্দির ও বাজার সংস্কারের নামে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ আসে। কিন্তু সরেজমিনে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।
একই প্রকল্পে বারবার বরাদ্দ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নগর বেনীপাড়া থেকে শ্মশানঘাট অভিমুখে রাস্তা সংস্কার ও শ্মশান উন্নয়নের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই স্থানের নামে এর আগেও একাধিকবার সরকারি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকেও একই প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ আনা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কাজের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সর্বশেষ বরাদ্দের অর্থে জনস্বার্থে কাজ না করে ব্যক্তিগত ঘের ও পুকুরের পাড় সংস্কার করা হয়েছে। এমনকি পুকুরের মাটি বিক্রি করেও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
মন্দির সংস্কারের চাল গেল কোথায়?
জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া কালীমন্দির ও মদনমোহন মন্দির সংস্কারের জন্য সরকারি চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কোনো বরাদ্দ পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা তারক চন্দ্র আঢ্য অভিযোগ করে বলেন, “মন্দিরের নামে বরাদ্দ আনা হলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।”
তার অভিযোগ, তার বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতা শিবুপদ আঢ্যের কবরের পাশ থেকে মাটি কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বাধা দিলে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়।
রাস্তা সংস্কারের নামে অর্থ উত্তোলন
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একের পর এক প্রকল্পের তথ্য—
খোদ্দবাটরা এলাকায় সিরাজ মাস্টারের বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ ৪ লাখ টাকা।
একই রাস্তার নামে পূর্ববর্তী অর্থবছরে আরও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ।
ইটের সোলিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য মাটি ফেলে পুরো প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে—
মানিকনগর কাটাখালী থেকে জয়নগর দাসপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
জয়নগর খালপাড় থেকে পুরাতন গেট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—২ লাখ ৪ হাজার টাকা।
জয়নগর মিশন থেকে খালধার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
নীলকণ্ঠপুর গফফার মোল্যার বাড়ি থেকে গদখালী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—২ লাখ টাকা।
সরেজমিনে এসব প্রকল্পের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
খোদ্দবাটরা এলাকায় একাধিক ইটের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী বালি ব্যবহার করা হয়নি, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাস্তার প্রস্থও নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম রাখা হয়েছে। ফলে অল্প সময়েই অনেক স্থানে রাস্তার ইট উঠে গেছে এবং চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার সংস্কারের টাকাও উধাও?
জয়নগর সরসকাটি বাজার সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও বাজার এলাকায় কোনো সংস্কারকাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
একইভাবে বসন্তপুর এলাকায় আনারুলের ঘের থেকে জব্বার মোড়লের ঘের পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
চেয়ারম্যান নিজেই অধিকাংশ প্রকল্প নিয়েছেন’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, “অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যান নিজেই নিয়েছেন। বাস্তবে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বরাদ্দ ও বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
প্রশাসনের নজরে অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই এবং কাজ বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বলেন, “কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন ব্যয়
জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অর্থে উন্নয়নের নামে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কাজ হয়েছে, আর কতটুকু অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—তা জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের ভাষায়, “সরকার টাকা দিচ্ছে গ্রামের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু উন্নয়ন হচ্ছে না। তাহলে টাকা যাচ্ছে কোথায়?”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা কলারোয়ায় জয়নগরে উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ

কাগজে সড়ক, মাঠে নেই কাজ; তিন অর্থবছরে কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

সাতক্ষীরা কলারোয়ায় জয়নগরে উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও বাজার উন্নয়নের নামে গত তিন অর্থবছরে সরকারি তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব মিলছে না। কোথাও নামমাত্র কাজ, কোথাও কোনো কাজই নেই। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “উন্নয়ন হয়েছে শুধু কাগজে, টাকা গেছে অন্যখাতে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, শ্মশান, মন্দির ও বাজার সংস্কারের নামে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ আসে। কিন্তু সরেজমিনে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।
একই প্রকল্পে বারবার বরাদ্দ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নগর বেনীপাড়া থেকে শ্মশানঘাট অভিমুখে রাস্তা সংস্কার ও শ্মশান উন্নয়নের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই স্থানের নামে এর আগেও একাধিকবার সরকারি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকেও একই প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ আনা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কাজের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সর্বশেষ বরাদ্দের অর্থে জনস্বার্থে কাজ না করে ব্যক্তিগত ঘের ও পুকুরের পাড় সংস্কার করা হয়েছে। এমনকি পুকুরের মাটি বিক্রি করেও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
মন্দির সংস্কারের চাল গেল কোথায়?
জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া কালীমন্দির ও মদনমোহন মন্দির সংস্কারের জন্য সরকারি চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কোনো বরাদ্দ পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা তারক চন্দ্র আঢ্য অভিযোগ করে বলেন, “মন্দিরের নামে বরাদ্দ আনা হলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।”
তার অভিযোগ, তার বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতা শিবুপদ আঢ্যের কবরের পাশ থেকে মাটি কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বাধা দিলে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়।
রাস্তা সংস্কারের নামে অর্থ উত্তোলন
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একের পর এক প্রকল্পের তথ্য—
খোদ্দবাটরা এলাকায় সিরাজ মাস্টারের বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ ৪ লাখ টাকা।
একই রাস্তার নামে পূর্ববর্তী অর্থবছরে আরও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ।
ইটের সোলিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য মাটি ফেলে পুরো প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে—
মানিকনগর কাটাখালী থেকে জয়নগর দাসপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
জয়নগর খালপাড় থেকে পুরাতন গেট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—২ লাখ ৪ হাজার টাকা।
জয়নগর মিশন থেকে খালধার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
নীলকণ্ঠপুর গফফার মোল্যার বাড়ি থেকে গদখালী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার—২ লাখ টাকা।
সরেজমিনে এসব প্রকল্পের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
খোদ্দবাটরা এলাকায় একাধিক ইটের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী বালি ব্যবহার করা হয়নি, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাস্তার প্রস্থও নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম রাখা হয়েছে। ফলে অল্প সময়েই অনেক স্থানে রাস্তার ইট উঠে গেছে এবং চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার সংস্কারের টাকাও উধাও?
জয়নগর সরসকাটি বাজার সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও বাজার এলাকায় কোনো সংস্কারকাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
একইভাবে বসন্তপুর এলাকায় আনারুলের ঘের থেকে জব্বার মোড়লের ঘের পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
চেয়ারম্যান নিজেই অধিকাংশ প্রকল্প নিয়েছেন’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, “অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যান নিজেই নিয়েছেন। বাস্তবে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বরাদ্দ ও বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
প্রশাসনের নজরে অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই এবং কাজ বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বলেন, “কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন ব্যয়
জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অর্থে উন্নয়নের নামে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কাজ হয়েছে, আর কতটুকু অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—তা জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের ভাষায়, “সরকার টাকা দিচ্ছে গ্রামের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু উন্নয়ন হচ্ছে না। তাহলে টাকা যাচ্ছে কোথায়?”