রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ইদানিং অপরাধ তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে হারে অপরাধ হচ্ছে গ্রেফতার খুবই কম। ফলে সন্ধ্যার পর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপরাধীদের হাতে। গণহারে ছিনতাই হচ্ছে। থানায় অভিযোগে অধিকাংশই রেকর্ড না হওয়ায় মাসের পর মাস তদন্তের নামে অপরাধের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। যাদের দেখার কথা তার দেখেও না দেখার ভান করে চলছে। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গভীর রাতে দুধর্ষ চুরি হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মোঃ মুনতাসির খান ক্যানাল ঘাট দৌলতদিয়া এলাকা থেকে একটি ভাঙ্গারির দোকান থেকে চোরাই মালামালের ৯টি আলামতসহ হালিম নামে ১ জনকে আটক করে থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। দীর্ঘদিন পরেও চুরি হওয়া আরো ২ প্রকার মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। গ্রেফতার হয়নি নতুন কোন আসামী। গোয়ালন্দ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনতাসির খান দৌলতদিয়া পুরাভিটা এলাকায় মাদকসহ আষিশ চন্দ্র শীল (২৬) কে গাঁজাসহ আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১শত টাকা জরিমানা হয়। এ ঘটনায় ফয়সালসহ কতিপয় সন্ত্রাসী ভ্রাম্যমান আদালতের উপর হামলা করে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেয়। র্যাব-১০ ফরিদপুরের একটি দল বাগেরহাট জেলা থেকে আসামী ফয়সালকে গ্রেফতার করে। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সর্দারিনী শিরিন (৪৫) জোরপূর্বক যুবতী (২৫) কে দিয়ে দেহ ব্যবসা করায়। রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের নির্দেশে উক্ত যুবতীকে উদ্ধার করে থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামী শিরিন, বাবলু, আমজাদ, আইনুল ইসলাম কে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারি নি। একটি দালাল চক্র উক্ত যুবতীকে গাজীপুর জেলা থেকে ভালো চাকুরী দেওয়ার কথা বলে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সরর্দরীনি শিরিনের নিকট ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘ ২ মাস এখানে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানো হয়। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে শতাধিক কিশোরী মেয়েকে দিয়ে বিভিন্ন বাড়ীতে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। গোলায়ন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ সফিকুল ইসলাম, ৪ জুলাই শনিবার জানান, মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রয়েছে। শনিবার ১৪ পুড়িয়া হিরোইনসহ ১ জনকে আটক করে রাজবাড়ী কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা বাংলাদেশের মধ্যে আয়তনে ছোট হলেও অপরাধের প্রবণতা মারাত্বকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দৌলতদিয়া পুরাভিটা এলাকা থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির ড্রাইভার মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। গত ১ জুলাই রাজবাড়ী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়ালন্দ আমলী আদালাতের বিচার মোঃ মুহাসিন হাসান ভিডিও ভাইরাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেন রাজবাড়ী পুলিশ সুপারকে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিচের কোন তদন্ত না করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই তদন্তের রিপোর্ট আদালতে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর গোয়ালন্দ ঘাট থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে পুলিশের চাঁদা আদায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সংবাদ শিরোনাম
পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা নিচ্ছে!
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অপরাধ বেড়েই চলেছে
-
রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী থেকে - আপলোড সময় ০২:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- 11
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























