ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রূপগঞ্জে শিশু ধর্ষণের চেষ্টাঃঅভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল এর উপকরণ পরিবহনের অভিযোগে ভাঙ্গুড়ায় মোবাইল কোর্টে জরিমানা খুলনায় ২২ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেফতার খুলনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ খুলনায় মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবা সেমিনার অনুষ্ঠিত পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক (CRN) বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত খুলনায় গুমের পাঁচ মাস পর ইজিবাইক চালকের কঙ্কাল উদ্ধার স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার “রূপান্তরের বাংলাদেশ: রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির নতুন অধ্যায়” খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে হাসান আল নাঈমের যোগদান, সহকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা খুলনায় স্কুল ছাত্রী নির্জনা হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মানিকগঞ্জে ভূমি অফিসের পিয়ন ওয়াসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

অ্যাডভোকেট পরিচয়ে প্রতারণা, ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; খারিজের নামে অর্থ আদায়েরও একাধিক লিখিত অভিযোগ, তদন্তে জেলা প্রশাসন

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) ওয়াসিম মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণা, নিজেকে অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যাংকের আমানতের অর্থ আত্মসাৎ এবং খারিজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি প্রায় ১৮ লাখ টাকার একটি এফডিআর আত্মসাতকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগকারী টিপু রহমান দাবি করেন, তার দাদী রাজিয়া বেগম মৃত্যুর আগে একটি এফডিআরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা তার (টিপুর) নামে নমিনি করে যান। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজিয়া বেগম মারা যাওয়ার পর ঘরের লকার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উধাও হয়ে যায়। পরে ব্যাংক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি জানতে পারেন, এফডিআরের অর্থ অন্য হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।
টিপু রহমানের অভিযোগ, ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক ওয়াসিম মিয়া কৌশলে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে একটি অডিও কল রেকর্ডিং সামনে আসে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম কথিতভাবে বলেন, টিপুর নামে থাকা ১৮ লাখ টাকার অর্থ অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা। অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগকারী পক্ষ এটিকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দাবি করছে।
টিপু রহমান আরও অভিযোগ করেন, তার দাদীর মৃত্যুর পর ঘরের চাবি আটকে রাখা হয় এবং দাফনের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে দাফন শেষে ঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। সাংবাদিকদের কাছেও তিনি নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
এদিকে তদন্ত চলাকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জাতীয় দৈনিকের এক সাংবাদিককে ‘ইউটিউবার’ বলে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ওয়াসিম মিয়ার বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র অভিযোগ নয়। জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া আরেকটি লিখিত অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে খারিজ ও জমাভাগের কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী ফজলুল করিম দাবি করেন, নিজের ও শ্বশুরবাড়ির জমির নামজারি এবং জমাভাগের কাজের জন্য প্রায় দুই বছর আগে ওয়াসিমের কাছে কাগজপত্র জমা দেন। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, তার শ্যালক মো. সামছুল হকের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং আত্মীয় আজমত মোল্লার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে ওয়াসিম অন্যত্র বদলি হলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও টাকা ও কাগজপত্র ফেরত পাওয়া যায়নি। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকারী ৫ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি অর্থ এখনও পাননি বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী রয়েছেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমন কর্মকাণ্ডে ভূমি প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
তবে ওয়াসিম মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “আমার নামে নমিনি করা হয়েছিল। আমি আমার টাকাই তুলেছি।”
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষকে নমিনি সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাংকের নথি এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫ জুলাই ২০২৬ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
একের পর এক লিখিত অভিযোগে ভূমি অফিসের এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এখন মানিকগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে শিশু ধর্ষণের চেষ্টাঃঅভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জে ভূমি অফিসের পিয়ন ওয়াসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আপলোড সময় ০৩:৪১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

অ্যাডভোকেট পরিচয়ে প্রতারণা, ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; খারিজের নামে অর্থ আদায়েরও একাধিক লিখিত অভিযোগ, তদন্তে জেলা প্রশাসন

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) ওয়াসিম মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণা, নিজেকে অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যাংকের আমানতের অর্থ আত্মসাৎ এবং খারিজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি প্রায় ১৮ লাখ টাকার একটি এফডিআর আত্মসাতকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগকারী টিপু রহমান দাবি করেন, তার দাদী রাজিয়া বেগম মৃত্যুর আগে একটি এফডিআরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা তার (টিপুর) নামে নমিনি করে যান। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজিয়া বেগম মারা যাওয়ার পর ঘরের লকার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উধাও হয়ে যায়। পরে ব্যাংক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি জানতে পারেন, এফডিআরের অর্থ অন্য হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।
টিপু রহমানের অভিযোগ, ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক ওয়াসিম মিয়া কৌশলে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে একটি অডিও কল রেকর্ডিং সামনে আসে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম কথিতভাবে বলেন, টিপুর নামে থাকা ১৮ লাখ টাকার অর্থ অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা। অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগকারী পক্ষ এটিকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দাবি করছে।
টিপু রহমান আরও অভিযোগ করেন, তার দাদীর মৃত্যুর পর ঘরের চাবি আটকে রাখা হয় এবং দাফনের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে দাফন শেষে ঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। সাংবাদিকদের কাছেও তিনি নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
এদিকে তদন্ত চলাকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জাতীয় দৈনিকের এক সাংবাদিককে ‘ইউটিউবার’ বলে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ওয়াসিম মিয়ার বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র অভিযোগ নয়। জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া আরেকটি লিখিত অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে খারিজ ও জমাভাগের কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী ফজলুল করিম দাবি করেন, নিজের ও শ্বশুরবাড়ির জমির নামজারি এবং জমাভাগের কাজের জন্য প্রায় দুই বছর আগে ওয়াসিমের কাছে কাগজপত্র জমা দেন। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, তার শ্যালক মো. সামছুল হকের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং আত্মীয় আজমত মোল্লার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে ওয়াসিম অন্যত্র বদলি হলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও টাকা ও কাগজপত্র ফেরত পাওয়া যায়নি। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকারী ৫ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি অর্থ এখনও পাননি বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী রয়েছেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমন কর্মকাণ্ডে ভূমি প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
তবে ওয়াসিম মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “আমার নামে নমিনি করা হয়েছিল। আমি আমার টাকাই তুলেছি।”
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষকে নমিনি সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাংকের নথি এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫ জুলাই ২০২৬ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
একের পর এক লিখিত অভিযোগে ভূমি অফিসের এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এখন মানিকগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।