ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন, ১১ দফা প্রস্তাব ঘোষণা

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর, টেকসই ও বিজ্ঞানসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক নুরুল আমীন শাহীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান কে এম আবু হানিফ হৃদয়, বাংলাদেশ ন্যাপ’র মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোঃ তুষার রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, যুগ্ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কাজল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বাবুল, চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের আহবায়ক ফয়েজ আহমেদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজট, দুর্ঘটনা, ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি জমে থাকা পানির কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাধার দখল-ভরাট, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার না করা, ড্রেনে বর্জ্য ও পলিথিন ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, “জলাবদ্ধতা কোনো প্রাকৃতিক নিয়তি নয়; এটি পরিকল্পনার অভাব, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।”

মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ কংগ্রেস পুনরায় ঘোষণা করে, “জলাবদ্ধতা নয়, চাই কার্যকর, টেকসই ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা।” একই সঙ্গে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও জলাবদ্ধতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে ঘোষিত ১১ দফা প্রস্তাবনা

১. জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

২. আধুনিক, টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

৩. সকল খাল, জলাধার ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ উদ্ধার ও দখলমুক্ত করতে হবে।

৪. বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী সমাধানমূলক প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) ও দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৭. ড্রেনে আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

৮. সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

৯. স্থায়ী ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

১০. প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১. নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত শহর নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন, ১১ দফা প্রস্তাব ঘোষণা

আপলোড সময় ০৫:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর, টেকসই ও বিজ্ঞানসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক নুরুল আমীন শাহীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান কে এম আবু হানিফ হৃদয়, বাংলাদেশ ন্যাপ’র মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোঃ তুষার রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, যুগ্ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কাজল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বাবুল, চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের আহবায়ক ফয়েজ আহমেদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজট, দুর্ঘটনা, ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি জমে থাকা পানির কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাধার দখল-ভরাট, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার না করা, ড্রেনে বর্জ্য ও পলিথিন ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, “জলাবদ্ধতা কোনো প্রাকৃতিক নিয়তি নয়; এটি পরিকল্পনার অভাব, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।”

মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ কংগ্রেস পুনরায় ঘোষণা করে, “জলাবদ্ধতা নয়, চাই কার্যকর, টেকসই ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা।” একই সঙ্গে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও জলাবদ্ধতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে ঘোষিত ১১ দফা প্রস্তাবনা

১. জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

২. আধুনিক, টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

৩. সকল খাল, জলাধার ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ উদ্ধার ও দখলমুক্ত করতে হবে।

৪. বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী সমাধানমূলক প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) ও দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৭. ড্রেনে আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

৮. সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

৯. স্থায়ী ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

১০. প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১. নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত শহর নিশ্চিত করতে হবে।