ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও উন্নয়নমুখী দাবি খুলনা চেম্বারের তালায় জলবায়ু অভিযোজন নেটওয়ার্কের অর্ধবার্ষিক সভা মশার পেছনে কোটি টাকা: বিদেশ সফরে ব্যয়, সেই অর্থে কত ওষুধ ও স্প্রে মেশিন কেনা যেত? কুয়েটে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা: বিচার নাকি হয়রানি? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ঠাকুরগাঁও জেলার মোটরসাইকেল চুরির হোতা আ.লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আটক জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে খুলনার কয়রায় ৩০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ অবশেষে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি

জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে

সরকারি চাকরিতে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যদি একজন কর্মচারী গড়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন, তাহলে ১০ বছরে একজনের পেছনে সরকারি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪৭১ জনের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকারও বেশি। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ সময়ের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পেনশন সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল সনদধারীদের মাধ্যমে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, বরং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কীভাবে জাল সনদধারীরা চাকরিতে বহাল থাকলেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা অবৈধভাবে নেওয়া বেতন-ভাতা সুদসহ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতের আদেশ, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনকর্মীরা মনে করেন, শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, রাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করা কঠিন হবে।

জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির দায় কারা বহন করবে এবং কবে নাগাদ সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরবে—সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছে

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা

জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে

আপডেট সময় ১২:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরিতে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যদি একজন কর্মচারী গড়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন, তাহলে ১০ বছরে একজনের পেছনে সরকারি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪৭১ জনের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকারও বেশি। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ সময়ের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পেনশন সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল সনদধারীদের মাধ্যমে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, বরং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কীভাবে জাল সনদধারীরা চাকরিতে বহাল থাকলেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা অবৈধভাবে নেওয়া বেতন-ভাতা সুদসহ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতের আদেশ, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনকর্মীরা মনে করেন, শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, রাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করা কঠিন হবে।

জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির দায় কারা বহন করবে এবং কবে নাগাদ সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরবে—সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছে