ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা খুলনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুব/ক নিহত খুলনা অফিস সমাজকর্মী নাহিদ হাসান তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো পরিবর্তন না হলে সার্বিক বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে — শায়েখ চরমোনাই বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ আঙিনায় ১৬ মেহগনি গাছের বড় ডাল কেঁটে সাবাড়, শিক্ষার্থী মানববন্ধন খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর শুটার গ্রেফতার সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ, গোদাগাড়ীর ইউএনওর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা: সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা গেজেটে প্রকাশিত হলো ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিনের নাম তালায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংলাপ সভা এইচএসসি ও সমমানে ঠাকুরগাঁওয়ের ৯ কলেজে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে

সরকারি চাকরিতে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যদি একজন কর্মচারী গড়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন, তাহলে ১০ বছরে একজনের পেছনে সরকারি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪৭১ জনের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকারও বেশি। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ সময়ের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পেনশন সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল সনদধারীদের মাধ্যমে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, বরং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কীভাবে জাল সনদধারীরা চাকরিতে বহাল থাকলেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা অবৈধভাবে নেওয়া বেতন-ভাতা সুদসহ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতের আদেশ, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনকর্মীরা মনে করেন, শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, রাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করা কঠিন হবে।

জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির দায় কারা বহন করবে এবং কবে নাগাদ সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরবে—সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছে

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

খুলনায় তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে

আপলোড সময় ১২:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরিতে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যদি একজন কর্মচারী গড়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন, তাহলে ১০ বছরে একজনের পেছনে সরকারি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪৭১ জনের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকারও বেশি। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ সময়ের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পেনশন সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল সনদধারীদের মাধ্যমে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, বরং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কীভাবে জাল সনদধারীরা চাকরিতে বহাল থাকলেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা অবৈধভাবে নেওয়া বেতন-ভাতা সুদসহ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতের আদেশ, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনকর্মীরা মনে করেন, শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, রাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করা কঠিন হবে।

জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির দায় কারা বহন করবে এবং কবে নাগাদ সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরবে—সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছে