খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে আদালত ছয়জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঐ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহাআলম। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত এক আসামিকে খালাস দিয়েছে।
কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো. লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস । এছাড়া মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামি শামীম বিশ্বাসকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় প্রদানকালে লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ঐ সময় তার সঙ্গে কর্মচারী ছিলেন। তারা দুইজন নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন তাদের গতিরোধ করে। এ সময় একজন পুলিশের পোশাকে ও বাকি তিনজন সাধারণ পোশাকে ছিল। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে তাকে তাদের সঙ্গে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না গিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়। এ সময় রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে তারা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। এ ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
খুলনা অফিস 



















