ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

খুলনায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ রাশিদা হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ০৭:১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • 13

খুলনায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ রাশিদা বেগম হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া দক্ষিণপাড়ার মো. মনসুর আলীর স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম, তাঁর ছেলে মো. ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাতা শামীম শেখ, নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার নজরুল ইসলাম মুন্সির ছেলে রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং তেরখাদা উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়া এলাকার শের আলীর ছেলে ইলিয়াস শেখ। তাঁদের মধ্যে আনোয়ারা বেগম ও শামীম শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা নাসিরুজ্জামান তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা রাশিদা বেগমকে বাড়িতে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাইরে যান। ওই দিন বৃষ্টির সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে রাশিদা বেগম চিৎকার করলে চোরেরা তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তারা ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে নাসিরুজ্জামান বাড়িতে ফিরে মাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের নিচে তাঁর মায়ের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন ২০ জুলাই তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের এ রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট এটিএম মনিরুজ্জামান।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

খুলনায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ রাশিদা হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

আপলোড সময় ০৭:১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

খুলনায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ রাশিদা বেগম হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া দক্ষিণপাড়ার মো. মনসুর আলীর স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম, তাঁর ছেলে মো. ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাতা শামীম শেখ, নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার নজরুল ইসলাম মুন্সির ছেলে রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং তেরখাদা উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়া এলাকার শের আলীর ছেলে ইলিয়াস শেখ। তাঁদের মধ্যে আনোয়ারা বেগম ও শামীম শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা নাসিরুজ্জামান তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা রাশিদা বেগমকে বাড়িতে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাইরে যান। ওই দিন বৃষ্টির সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে রাশিদা বেগম চিৎকার করলে চোরেরা তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তারা ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে নাসিরুজ্জামান বাড়িতে ফিরে মাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের নিচে তাঁর মায়ের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন ২০ জুলাই তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের এ রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট এটিএম মনিরুজ্জামান।