দশকের পর দশক হাজারো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার পর একজন শিক্ষক অবসরে যান। জীবনের শেষ সময় একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য নিজের সঞ্চিত অবসরের টাকা ভরসা তাদের। কিন্তু এ টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাদের। অবশেষে সেই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষককে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সম্মতি দেন তিনি। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষককে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা দেওয়া হবে। কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাবেন ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। আর অবসর সুবিধা বোর্ডের টাকা দেওয়া হবে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে। আগামী ১৫ আগস্ট টাকা বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কল্যাণ ট্রাস্টের পুরো অর্থই শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া হতে পারে। আর অবসর সুবিধা বোর্ডের ৫ লাখ করে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৪ আগস্ট এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন।’
জানা গেছে, অবসরের অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ শিক্ষকের পাওনা মেটাতে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অবসর সুবিধা বোর্ডে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত জমা হওয়া ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদনের বিপরীতে ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। কল্যাণ ট্রাস্টের মার্চ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদনের জন্য ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা লাগবে।
শিক্ষকদের অবসরের টাকা দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছে মন্ত্রণালয় বলে জানা গেছে। যদিও শুরুতে অর্থ বিভাগ ৩০০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের চেষ্টায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পূর্বে অবসরের টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থ বিভাগে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন। তিনি অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য চান ১ হাজার কোটি টাকা।
নির্ভীক সংবাদ প্রতিবেদক 



















