বেনাপোল কাস্টমসে চোরাচালান ও দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, আনসার সদস্য এবং অন্যদের আটকের ঘটনায় সীমান্ত বাণিজ্য ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২১ জুন ২০২৬ দিবাগত রাতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর কথা বলে বেনাপোল কাস্টমসের গোডাউন থেকে একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্য বের করার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্যের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সন্দেহজনক ওই ট্রাকটি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালান। তল্লাশিতে ট্রাকভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
ঘটনার পরপরই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে একজন কর্মকর্তা, একজন আনসার সদস্য (আরিফ) এবং তিনজন আনসার সিপাহিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, কাস্টমস গোডাউনের নিরাপত্তা এবং জব্দকৃত পণ্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাস্টমসের জব্দকৃত পণ্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকার কথা। সেখান থেকে যদি পণ্য পাচারের চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। সেই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য পাচার বন্ধ করতে হলে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও জোরদার করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সীমান্ত বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বেনাপোলে এ ধরনের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেলিম পলাশ, যশোর অফিস 




















