খুলনা বন বিভাগের বিরুদ্ধে পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও দুদকের কঠোর তদন্তের দাবি
সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পারমিট প্রদান, বনপথ ব্যবস্থাপনা এবং বনজ সম্পদ পাচার নিয়ে খুলনা বন বিভাগের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বননির্ভর মানুষ, জেলে, মৌয়াল, পরিবেশ সচেতন নাগরিক এবং বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্রের প্রভাবের কারণে সরকারি নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পারমিটে অনিয়ম এবং রাতের বেলায় অবৈধভাবে বনপথ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি থাকলেও বাস্তবে অনেক আবেদনকারীকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করেও অনেক বনজীবী সময়মতো অনুমতি পান না, অথচ প্রভাবশালী বা বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা দ্রুত পারমিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এতে প্রকৃত বননির্ভর মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাতের আঁধারে নদীপথ ব্যবহার করে বনজ সম্পদ পাচার এবং অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এসব কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ।
পরিবেশবাদীদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমিট ব্যবস্থা, টহল কার্যক্রম এবং নজরদারিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলোর কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্তে যদি কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তি অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে খুলনা বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই এ বনকে ঘিরে ওঠা যেকোনো অভিযোগ দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের স্বার্থেই জরুরি।
খুলনা অফিস 




















