ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সান্তাহারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের এএসআই ক্লোজ সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে মঙ্গলবার নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে সিলেট কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই! সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ! কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে! সাতক্ষীরার বহুরুপী চৈতালি মুখার্জি, কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি! হাইব্রিড নেত্রী  সাতক্ষীরা এলজিইডির মুকুট হীন রাজা হাওলাদারের দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে? জাতীয় জনতা পার্টির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খানের মাজার জিয়ারত যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৬৮৪ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন

কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই!

ঝুড়ি ভর্তি মাটি, হাতে কোদাল। রাত জেগে নদীর পাড়ে পাহারা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মানুষ এখন এভাবেই দিন কাটাচ্ছে। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বালিয়া, শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের হাজারও মানুষ। গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিলের মধ্যে থাকা মৎস্য ঘের মালিকরা প্রথমে বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত গ্রামে এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। ঘুম ভেঙে গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশু ঝুঁড়ি-কোঁদাল নিয়ে ছুটে যান নদের পাড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁরা ভাঙা অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করে লোকারয়ে নদের পানি প্রবেশ ঠেকান। সেদিন রক্ষা পেলেও বিপদ কাটেনি। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। পানি চুঁইয়ে চুঁইয়ে ভেতরে ঢুকছে। গত তিন দিন ধরে গ্রামের মানুষ পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন এবং দুর্বল স্থানগুলো মাটি দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনবল ও উপকরণের অভাবে তা কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সবাই।

ভুক্তভোগী নারী নাজমিন আক্তার বলেন, “শনিবার রাতে যদি আমরা সময়মতো না যেতাম তাহলে এতক্ষণে আমাদের ঘর-বাড়ি, মাছের ঘের সব লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। এখন আবার ফাটল ধরেছে। তিন দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন- সবাইকে ফোন দিয়েছি, কেউ একবারও এসে দেখল না।” এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু বালিয়া নয়, পাশের শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হবে। তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ মাছের ঘের ও কৃষি জমি। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁর। বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজী ও জামাল উদ্দীন বলেন, প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খনন শুরু হলে এলাকাবাসী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের দাবি জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে দুই দিন সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করার পর অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দেয়। এরপর চলমান গতিতে খনন করায় কপোতাক্ষ নদ তার নিজস্ব গতিপথ থেকে সরে এসে বালিয়া গ্রামের জনবসতির খুব কাছে চলে আসে। এর ফলে বালিয়া অংশে নদের গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সমেয় এই এলাকায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় নদ আরও খরস্রোতা হয়ে ওঠে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কোনো স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেনি। ফলে প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে টিআরএম সংযোগ খালের পাশে দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষক ও ঘের মালিকদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়। বারবার লিখিত দরখাস্ত, সভা ও মানববন্ধন করেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, “বালিয়া গ্রামের বাঁধের একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। এই বাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা লোনা পানিতে ডুবে যাবে। বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। “গ্র্রামবাসীর এখন একটাই দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা এবং কপোতাক্ষ নদের বালিয়া অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।”

এবিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তিনি অবগত এবং ইতোপূর্বে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধের কাজ করা সম্ভব হবে।

তালায় বীমার টাকা ফেরতের দাবীতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামে বিভিন্ন মেয়াদের বীমা করে মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বারুইহাটি গ্রামের শতবাধিক নারী-পুরুষ গ্রাহক গত রোববার বিকালে বারুইহাটি ঈদগাহ’র সামনের সড়কে এই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহক বারুইহাটি গ্রামের হারুন-অর-রশিদ, মো. বুলগানী, হযরত আলী পাড়, আব্দুল হান্নান সরদার, ছবিরোন বিবি, কমলা বেগম ও সুমিত্রা কর্মকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, বারুইহাটি গ্রামের মৃত কোমরউদ্দীন সরদারের পুত্র ফয়সাল হোসেন (৪৫) বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে বিমার গ্রাহক করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক গ্রাহক তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা বলেন, বীমা গ্রাহকদের কাছ থেকে ফয়সাল হোসেন বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বীমা অফিসে অল্প টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছে। বীমার মেয়াদ পার হবার পর গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরৎ চায়লে সেই টাকা না দিয়ে নানান তালবাহানা করছে ফয়সাল। গ্রাহকরা বলেন, ফয়সাল গ্রামের সহগজ-সরল অশিক্ষিত একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বারবার কোম্পানী পরিবর্তন করিয়ে চাটা গ্রহনের রশিদ জমা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের নাম পরিবর্তন করে একে সময়ে একেক নামে রশিদ দিয়েছে। যে কারনে গ্রহকরা এখন কোম্পানীর কাছ থেকে প্রতিকার পাচ্ছেনা। আবার রশিদের নাম বা গ্রাহকের বিবরন ঠিকমতো না লেখাতে কোম্পানী এর দায় নিচ্ছে না। যে কারনে শত শত গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত লাখ লাখ টাকা ফয়সালের কাছে ফেরৎ চাইতে গেলেও ফয়সালের কোনও সহযোগীতা পাচ্ছেনা উপরন্তু হুমকির শিকার হচ্ছে। এঘটনার প্রতিকার পেতে নিরিহ এই মানুষগুলো মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল হোসেন বলেন, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১১৯ জন সদস্যের মধ্যে ১১৭ জনকে মোট ১৬ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ১২ লাখ টাকার বিপরীতে বোনাসসহ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মেয়াদপূর্তির ক্ষেত্রে ৭০ জন সদস্যের মধ্যে ১৮ জনকে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাকি সদস্যরা কোম্পানির আইনগত জটিলতার কারণে তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা দ্রুত তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার তালায় সরকারি সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন’র আয়োজনে সমতার জন্য লড়ি (সজল) প্রকল্পের আওতায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভূমিজ ফাউন্ডেশন সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ হাজিরা খাতুন, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, সমাজ সেবা অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস।

প্রকল্প কর্মকর্তা দে, অঞ্জন কুমার’র পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে অধ্যাপক রোজউল ইসলাম, তালা নাগরকি কমিটির সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফনু নাহার আশা, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, অন্ত্যজ পরিষদের নেতা ইমদাদুল হক, স্বরসতী দাস, সোমা সরকার, ভূমিজ ফাউন্ডেশনের তারেক সরকার, মহাদের কুমারসহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায়- সরকারি পরিসেবায় দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও দুরিকরণ, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া ও বর্ণ বৈষম্য দূরিকরণের উপর আলোচনা হয়।

 

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সান্তাহারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের এএসআই ক্লোজ

কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই!

আপলোড সময় ১০:১৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝুড়ি ভর্তি মাটি, হাতে কোদাল। রাত জেগে নদীর পাড়ে পাহারা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মানুষ এখন এভাবেই দিন কাটাচ্ছে। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বালিয়া, শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের হাজারও মানুষ। গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিলের মধ্যে থাকা মৎস্য ঘের মালিকরা প্রথমে বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত গ্রামে এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। ঘুম ভেঙে গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশু ঝুঁড়ি-কোঁদাল নিয়ে ছুটে যান নদের পাড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁরা ভাঙা অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করে লোকারয়ে নদের পানি প্রবেশ ঠেকান। সেদিন রক্ষা পেলেও বিপদ কাটেনি। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। পানি চুঁইয়ে চুঁইয়ে ভেতরে ঢুকছে। গত তিন দিন ধরে গ্রামের মানুষ পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন এবং দুর্বল স্থানগুলো মাটি দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনবল ও উপকরণের অভাবে তা কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সবাই।

ভুক্তভোগী নারী নাজমিন আক্তার বলেন, “শনিবার রাতে যদি আমরা সময়মতো না যেতাম তাহলে এতক্ষণে আমাদের ঘর-বাড়ি, মাছের ঘের সব লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। এখন আবার ফাটল ধরেছে। তিন দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন- সবাইকে ফোন দিয়েছি, কেউ একবারও এসে দেখল না।” এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু বালিয়া নয়, পাশের শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হবে। তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ মাছের ঘের ও কৃষি জমি। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁর। বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজী ও জামাল উদ্দীন বলেন, প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খনন শুরু হলে এলাকাবাসী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের দাবি জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে দুই দিন সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করার পর অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দেয়। এরপর চলমান গতিতে খনন করায় কপোতাক্ষ নদ তার নিজস্ব গতিপথ থেকে সরে এসে বালিয়া গ্রামের জনবসতির খুব কাছে চলে আসে। এর ফলে বালিয়া অংশে নদের গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সমেয় এই এলাকায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় নদ আরও খরস্রোতা হয়ে ওঠে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কোনো স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেনি। ফলে প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে টিআরএম সংযোগ খালের পাশে দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষক ও ঘের মালিকদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়। বারবার লিখিত দরখাস্ত, সভা ও মানববন্ধন করেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, “বালিয়া গ্রামের বাঁধের একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। এই বাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা লোনা পানিতে ডুবে যাবে। বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। “গ্র্রামবাসীর এখন একটাই দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা এবং কপোতাক্ষ নদের বালিয়া অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।”

এবিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তিনি অবগত এবং ইতোপূর্বে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধের কাজ করা সম্ভব হবে।

তালায় বীমার টাকা ফেরতের দাবীতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামে বিভিন্ন মেয়াদের বীমা করে মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বারুইহাটি গ্রামের শতবাধিক নারী-পুরুষ গ্রাহক গত রোববার বিকালে বারুইহাটি ঈদগাহ’র সামনের সড়কে এই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহক বারুইহাটি গ্রামের হারুন-অর-রশিদ, মো. বুলগানী, হযরত আলী পাড়, আব্দুল হান্নান সরদার, ছবিরোন বিবি, কমলা বেগম ও সুমিত্রা কর্মকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, বারুইহাটি গ্রামের মৃত কোমরউদ্দীন সরদারের পুত্র ফয়সাল হোসেন (৪৫) বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে বিমার গ্রাহক করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক গ্রাহক তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা বলেন, বীমা গ্রাহকদের কাছ থেকে ফয়সাল হোসেন বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বীমা অফিসে অল্প টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছে। বীমার মেয়াদ পার হবার পর গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরৎ চায়লে সেই টাকা না দিয়ে নানান তালবাহানা করছে ফয়সাল। গ্রাহকরা বলেন, ফয়সাল গ্রামের সহগজ-সরল অশিক্ষিত একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বারবার কোম্পানী পরিবর্তন করিয়ে চাটা গ্রহনের রশিদ জমা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের নাম পরিবর্তন করে একে সময়ে একেক নামে রশিদ দিয়েছে। যে কারনে গ্রহকরা এখন কোম্পানীর কাছ থেকে প্রতিকার পাচ্ছেনা। আবার রশিদের নাম বা গ্রাহকের বিবরন ঠিকমতো না লেখাতে কোম্পানী এর দায় নিচ্ছে না। যে কারনে শত শত গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত লাখ লাখ টাকা ফয়সালের কাছে ফেরৎ চাইতে গেলেও ফয়সালের কোনও সহযোগীতা পাচ্ছেনা উপরন্তু হুমকির শিকার হচ্ছে। এঘটনার প্রতিকার পেতে নিরিহ এই মানুষগুলো মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল হোসেন বলেন, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১১৯ জন সদস্যের মধ্যে ১১৭ জনকে মোট ১৬ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ১২ লাখ টাকার বিপরীতে বোনাসসহ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মেয়াদপূর্তির ক্ষেত্রে ৭০ জন সদস্যের মধ্যে ১৮ জনকে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাকি সদস্যরা কোম্পানির আইনগত জটিলতার কারণে তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা দ্রুত তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার তালায় সরকারি সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন’র আয়োজনে সমতার জন্য লড়ি (সজল) প্রকল্পের আওতায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভূমিজ ফাউন্ডেশন সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ হাজিরা খাতুন, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, সমাজ সেবা অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস।

প্রকল্প কর্মকর্তা দে, অঞ্জন কুমার’র পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে অধ্যাপক রোজউল ইসলাম, তালা নাগরকি কমিটির সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফনু নাহার আশা, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, অন্ত্যজ পরিষদের নেতা ইমদাদুল হক, স্বরসতী দাস, সোমা সরকার, ভূমিজ ফাউন্ডেশনের তারেক সরকার, মহাদের কুমারসহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায়- সরকারি পরিসেবায় দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও দুরিকরণ, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া ও বর্ণ বৈষম্য দূরিকরণের উপর আলোচনা হয়।