ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ! কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে! সাতক্ষীরার বহুরুপী চৈতালি মুখার্জি, কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি! হাইব্রিড নেত্রী  সাতক্ষীরা এলজিইডির মুকুট হীন রাজা হাওলাদারের দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে? জাতীয় জনতা পার্টির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খানের মাজার জিয়ারত যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৬৮৪ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন যশোরে তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রবাসী স্বামীর আইনি লড়াই এভাবে আর কোনো পুলককে  গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না সাতরাস্তা ফ্লাইওভারে সিএনজির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আহত রূপগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী শূট্যার শাকিল গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ !

এ-যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ পাওয়ার গল্প , ঘষা দিলেই বনে যায় সরকারি চাকুরী”ঠিক এমনই হয়েছে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সুমি-র জীবনে। মা থেকে মেয়ে, মেয়ে থেকে জামাই, সবাই ভূমি সহায়ক হিসেবে করেন সরকারি চাকরি । যার ফলে সবাইকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট । আর এই সিন্ডিকেটের ফাঁদে খোদ নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের পোহাতে হয়েছে নানা ঝামেলা,ঠিক বাড়ির ছোট কোন সন্তান অপরাধ করলে যেমন পিতা মাতার উপর দ্বায় চাপে”‘ঠিক তেমনি ভাবে পৌর ভূমি অফিসে কোন ঘটনা ঘটলে তার সকল অনিয়মের দ্বায় পড়ত ভূমি সহকারী অফিসার শর্মিষ্ঠা সরকারের উপর।

যার ফলে নানা কারনে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিস থেকে তাকে বদলি করা হয় অন্য জেলায়। আর শর্মিষ্ঠা সরকার বদলি হওয়ার পরপরই বেরিয়ে আসে পৌর ভূমি অফিসের ভয়াবহ দালাল সিণ্ডিকেটের ঘটানো চাঞ্চল্যকর ঘটনা । যার মূল হোতারা কাজ করত খোদ ভূমি অফিসের মধ্যেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর ভূমি অফিসের একজন নারী অফিস সহায়ক সুমি ও তার স্বামী ভূমি সহায়তা কেন্দ্রে-র মোরাদ হোসেন মিলে গড়ে তোলে এই সিন্ডিকেট। সিণ্ডিকেটের অন্য সদস্য-রা অফিসের সামনে ফটোকপি-র দোকান ও মিউটেশন আবেদনের অনলাইন কম্পিউটারের দোকানগুলো। এদের মধ্যে একজন ফটোকপি-র দোকানদার ও কম্পিউটার দোকানদার ও সুমির স্বামী মোরাদ হোসেন মিলে অবৈধ ভাবে জাল (দলিল) কাগজের মাধ্যমে হাতিয়ে নেই লক্ষ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি এমই একটি ঘটনায় সংবাদ প্রচারের পরে বেরিয়ে আসে সিণ্ডিকেট গডফাদারদের নাম। খোদ পৌর ভূমি অফিসের সহয়ক সুমি রয়েছেন এই সিন্ডিকেটে মূল দায়িত্বে,ফলে সহজে নায়েব থেকে এসিল্যান্ড সবার কাছ থেকে সকল কাজ সহজে হয়ে যায়।
আরো জানা যায়,মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূমি সহায়ক পদে চাকরি পান এই সুমি। পরবর্তীতে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আলাউদ্দীনের চেরাগ সরকারি এই চাকরি পেয়েই বদলে যায় তার জীবন।
একজন সামান্য ‘অফিস সহায়কের’ দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ উঠেছে, অফিস সহায়ক সুমির শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে এই অফিসের পুরো ঘুষ বাণিজ্য। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দুর্নীতি ও ঘুষের বিনিময়ে প্রথমে ও-মেদার পদে সাতক্ষীরা ডিসি অফিসে প্রবেশ করেন সুমি। পরবর্তীতে নাজির শাহাবুদ্দিনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সুমির পৌর ভূমি অফিসে ‘অফিস সহায়ক’ পদের চাকরি নিশ্চিত হয়। এরপরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। কেবল নিজেই নন, নাজির শাহাবুদ্দিনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সুমি তার পরিবারের আরও ৭ থেকে ৮ জনকে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকরি পাইয়ে দেন। ফলে পুরো পরিবারই যেন এক ছাতার নিচে পেয়ে যায় ঘুষ ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স। সাম্প্রতিক তদন্তে এই সিন্ডিকেটের নতুন এক জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি জাল দলিল (নং ১৬২৩/০৭) তৈরি করে লাখ টাকার বিনিময়ে শ্রী রাজকুমার মাখাম নামে এক ব্যক্তির নামে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘুষের টাকা না দিলে কোনো সেবাগ্রহীতার ফাইল নড়ে না বলে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন অফিস সহায়কের মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) মাত্র ৮,৪০০ টাকা। তবে মাত্র কয়েক বছরে এই বেতনের বিপরীতে সুমি ও তার পরিবারের রসুলপুরে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন কয়েক লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাড়ি। গত তিন বছরেই স্বামী মুরাদকে কিনে দিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল মোটরসাইকেল। সদর ভূমি অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে অধিপত্য বিস্তার করে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির শক্ত বলয়।
শহরের স্থায়ী বাসিন্দা কালাম গাজী সেবাগ্রহীতা জানান, সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো দিনই সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকেই এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকতে হয়।অফিস সহায়কের মতো সর্বনিম্ন পদের কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে সুমি, নাজির শাহাবুদ্দিন ও তাদের সহযোগী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযুক্ত সুমির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন নাজির স্যারের মাধ্যমেই আমার চাকরি হয়েছে এবং আমার পরিবারের অনেকেরই চাকরি দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের অফিসে কোন ঘুষ,দুর্নীতি হয় না বলেও তিনি দাবি করেন।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ !

সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ !

আপলোড সময় ০১:১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ-যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ পাওয়ার গল্প , ঘষা দিলেই বনে যায় সরকারি চাকুরী”ঠিক এমনই হয়েছে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সুমি-র জীবনে। মা থেকে মেয়ে, মেয়ে থেকে জামাই, সবাই ভূমি সহায়ক হিসেবে করেন সরকারি চাকরি । যার ফলে সবাইকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট । আর এই সিন্ডিকেটের ফাঁদে খোদ নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের পোহাতে হয়েছে নানা ঝামেলা,ঠিক বাড়ির ছোট কোন সন্তান অপরাধ করলে যেমন পিতা মাতার উপর দ্বায় চাপে”‘ঠিক তেমনি ভাবে পৌর ভূমি অফিসে কোন ঘটনা ঘটলে তার সকল অনিয়মের দ্বায় পড়ত ভূমি সহকারী অফিসার শর্মিষ্ঠা সরকারের উপর।

যার ফলে নানা কারনে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিস থেকে তাকে বদলি করা হয় অন্য জেলায়। আর শর্মিষ্ঠা সরকার বদলি হওয়ার পরপরই বেরিয়ে আসে পৌর ভূমি অফিসের ভয়াবহ দালাল সিণ্ডিকেটের ঘটানো চাঞ্চল্যকর ঘটনা । যার মূল হোতারা কাজ করত খোদ ভূমি অফিসের মধ্যেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর ভূমি অফিসের একজন নারী অফিস সহায়ক সুমি ও তার স্বামী ভূমি সহায়তা কেন্দ্রে-র মোরাদ হোসেন মিলে গড়ে তোলে এই সিন্ডিকেট। সিণ্ডিকেটের অন্য সদস্য-রা অফিসের সামনে ফটোকপি-র দোকান ও মিউটেশন আবেদনের অনলাইন কম্পিউটারের দোকানগুলো। এদের মধ্যে একজন ফটোকপি-র দোকানদার ও কম্পিউটার দোকানদার ও সুমির স্বামী মোরাদ হোসেন মিলে অবৈধ ভাবে জাল (দলিল) কাগজের মাধ্যমে হাতিয়ে নেই লক্ষ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি এমই একটি ঘটনায় সংবাদ প্রচারের পরে বেরিয়ে আসে সিণ্ডিকেট গডফাদারদের নাম। খোদ পৌর ভূমি অফিসের সহয়ক সুমি রয়েছেন এই সিন্ডিকেটে মূল দায়িত্বে,ফলে সহজে নায়েব থেকে এসিল্যান্ড সবার কাছ থেকে সকল কাজ সহজে হয়ে যায়।
আরো জানা যায়,মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূমি সহায়ক পদে চাকরি পান এই সুমি। পরবর্তীতে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আলাউদ্দীনের চেরাগ সরকারি এই চাকরি পেয়েই বদলে যায় তার জীবন।
একজন সামান্য ‘অফিস সহায়কের’ দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ উঠেছে, অফিস সহায়ক সুমির শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে এই অফিসের পুরো ঘুষ বাণিজ্য। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দুর্নীতি ও ঘুষের বিনিময়ে প্রথমে ও-মেদার পদে সাতক্ষীরা ডিসি অফিসে প্রবেশ করেন সুমি। পরবর্তীতে নাজির শাহাবুদ্দিনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সুমির পৌর ভূমি অফিসে ‘অফিস সহায়ক’ পদের চাকরি নিশ্চিত হয়। এরপরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। কেবল নিজেই নন, নাজির শাহাবুদ্দিনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সুমি তার পরিবারের আরও ৭ থেকে ৮ জনকে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকরি পাইয়ে দেন। ফলে পুরো পরিবারই যেন এক ছাতার নিচে পেয়ে যায় ঘুষ ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স। সাম্প্রতিক তদন্তে এই সিন্ডিকেটের নতুন এক জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি জাল দলিল (নং ১৬২৩/০৭) তৈরি করে লাখ টাকার বিনিময়ে শ্রী রাজকুমার মাখাম নামে এক ব্যক্তির নামে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘুষের টাকা না দিলে কোনো সেবাগ্রহীতার ফাইল নড়ে না বলে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন অফিস সহায়কের মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) মাত্র ৮,৪০০ টাকা। তবে মাত্র কয়েক বছরে এই বেতনের বিপরীতে সুমি ও তার পরিবারের রসুলপুরে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন কয়েক লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাড়ি। গত তিন বছরেই স্বামী মুরাদকে কিনে দিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল মোটরসাইকেল। সদর ভূমি অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে অধিপত্য বিস্তার করে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির শক্ত বলয়।
শহরের স্থায়ী বাসিন্দা কালাম গাজী সেবাগ্রহীতা জানান, সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো দিনই সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকেই এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকতে হয়।অফিস সহায়কের মতো সর্বনিম্ন পদের কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে সুমি, নাজির শাহাবুদ্দিন ও তাদের সহযোগী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযুক্ত সুমির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন নাজির স্যারের মাধ্যমেই আমার চাকরি হয়েছে এবং আমার পরিবারের অনেকেরই চাকরি দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের অফিসে কোন ঘুষ,দুর্নীতি হয় না বলেও তিনি দাবি করেন।