দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশীয় গ্যাস ও তেলের নতুন উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সরকার। গত ২৪ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে Petrobangla।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টেন্ডারের আওতায় বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র (Shallow Sea) এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র (Deep Sea) ব্লক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে এসব ব্লকে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালি খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের হার তুলনামূলক কম। এ অবস্থায় সমুদ্রসীমায় নতুন গ্যাস ও তেলের মজুত খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারের আশা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই টেন্ডারে অংশ নেবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান করা হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রে উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। ফলে বাংলাদেশের জলসীমাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বিনিয়োগবান্ধব শর্ত এবং হালনাগাদ উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (PSC) কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জ্বালানি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বঙ্গোপসাগরের ব্লকগুলোতে সফল অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তাই স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চভাবে সংরক্ষিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























