ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

ঈদে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: তালায় ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১০-১২টি গ্রাম টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় চরম জনদুর্ভোগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।


শনিবার (৩০ মে) তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এ দাবি জানান তালা উপজেলা সমিতি-ঢাকার সভাপতি ড. মোল্যা রেজাউল করিম।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আযহার দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খলিশখালী ও মাগুরা ইউনিয়নের বাগমারা, টিকারামপুর, দলুয়া, ইনায়েতপুর, খলিশখালী, বলরামপুর, বালিয়াদহ, ফলেয়া ও চাঁদকাঠীসহ প্রায় ১০-১২টি গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন ছিল। এ সময় সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় কিছু গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের আংশিক ক্ষতি হলেও দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ড. মোল্যা রেজাউল করিম অভিযোগে বলেন,
“সরকার যেখানে ঈদ উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট, সেখানে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে না পেরে অসংখ্য পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় অসহনীয় গরমে দিন-রাত কাটাতে হয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। অনেক পরিবারের ফ্রিজে সংরক্ষিত কোরবানির মাংস পচে নষ্ট হয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুতের অভাবে কোরবানির মাংস নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়া মোবাইল চার্জিংসহ বিভিন্ন যোগাযোগ ও দৈনন্দিন সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হয়নি। এতে ঈদের আনন্দ অনেকাংশে ম্লান হয়ে যায়।
ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন,
“জনদুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের অনুলিপি সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

ঈদে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: তালায় ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি

আপলোড সময় ০৪:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১০-১২টি গ্রাম টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় চরম জনদুর্ভোগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।


শনিবার (৩০ মে) তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এ দাবি জানান তালা উপজেলা সমিতি-ঢাকার সভাপতি ড. মোল্যা রেজাউল করিম।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আযহার দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খলিশখালী ও মাগুরা ইউনিয়নের বাগমারা, টিকারামপুর, দলুয়া, ইনায়েতপুর, খলিশখালী, বলরামপুর, বালিয়াদহ, ফলেয়া ও চাঁদকাঠীসহ প্রায় ১০-১২টি গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন ছিল। এ সময় সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় কিছু গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের আংশিক ক্ষতি হলেও দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ড. মোল্যা রেজাউল করিম অভিযোগে বলেন,
“সরকার যেখানে ঈদ উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট, সেখানে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে না পেরে অসংখ্য পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় অসহনীয় গরমে দিন-রাত কাটাতে হয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। অনেক পরিবারের ফ্রিজে সংরক্ষিত কোরবানির মাংস পচে নষ্ট হয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুতের অভাবে কোরবানির মাংস নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়া মোবাইল চার্জিংসহ বিভিন্ন যোগাযোগ ও দৈনন্দিন সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হয়নি। এতে ঈদের আনন্দ অনেকাংশে ম্লান হয়ে যায়।
ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন,
“জনদুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের অনুলিপি সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।