ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরগুনার আমতলীতে ১৯০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার ২ ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী কে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা; ভাঙ্গুড়ায় ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা খুলনায় বিশেষ যৌথ অভিযানে আরও ৩৪জন গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর খুলনায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত টানা দুই বছর শূন্য থাকলে পদ বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাচারের জন্য রাখা একাধিক বন্যপ্রাণী উদ্ধার, একজন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলকে একা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের এনআইডি’র স্মার্টকার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে নভেম্বরে

এনজিও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে উপকারভোগী নির্বাচন, ভুয়া সদস্য অন্তর্ভুক্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিম্নমানের কাজ এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দাখিলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত প্রকল্পে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, সরকারি অর্থ বা বিদেশি অনুদানে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে আসছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬-এ এ ধরনের অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রকল্প ব্যয়ের হিসাব গোপন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং অর্থ অপব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এনজিওগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়মিত নিরীক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি আরও জোরদার করা হলে অনিয়ম কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং উপকারভোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনার আমতলীতে ১৯০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার ২

এনজিও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি

আপডেট সময় ০৮:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে উপকারভোগী নির্বাচন, ভুয়া সদস্য অন্তর্ভুক্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিম্নমানের কাজ এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দাখিলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত প্রকল্পে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, সরকারি অর্থ বা বিদেশি অনুদানে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে আসছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬-এ এ ধরনের অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রকল্প ব্যয়ের হিসাব গোপন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং অর্থ অপব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এনজিওগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়মিত নিরীক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি আরও জোরদার করা হলে অনিয়ম কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং উপকারভোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।