খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে সংঘটিত সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০০ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মামলায় বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি অন্তর্ভুক্ত করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ, নাকি নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঝুঁকি তৈরি করছে?
মামলার নথি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি শত শত অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের সংঘর্ষ বা নাশকতার ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি রাখা বাংলাদেশের আইনগত প্রক্রিয়ায় নতুন নয়। তবে তদন্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার বা অভিযুক্ত করা হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকা বা ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকার কারণে অনেক নিরপরাধ শিক্ষার্থীও সন্দেহের তালিকায় চলে আসতে পারেন। এতে তাদের শিক্ষাজীবন, চাকরির আবেদন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, একটি ফৌজদারি মামলায় নাম জড়িয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। আদালতে হাজিরা, তদন্তের মুখোমুখি হওয়া এবং আইনি ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আইনবিদদের মতে, অপরাধ সংঘটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু গণহারে অজ্ঞাত আসামি করার ফলে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই তদন্তে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ডিজিটাল তথ্য এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচার এবং হয়রানির মধ্যে পার্থক্য নির্ভর করে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর। যদি তদন্ত কেবলমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে এবং নির্দোষদের বাদ দেয়, তাহলে তা ন্যায়বিচারের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি হয়রানির অভিযোগকে শক্তিশালী করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কুয়েট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও মামলাজট শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার পাশাপাশি অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই এ বিতর্কের সমাধান দিতে পারে। একই সঙ্গে নিরপরাধ শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই আইনি হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত দোষীরা যেন ছাড় না পায়—সেটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ শিরোনাম ::
কুয়েটে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা: বিচার নাকি হয়রানি? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
-
মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ব্যুরো চীফ, খুলনা - আপডেট সময় ১১:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- ৫ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


























