ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

খুলনা খাদ্য অফিসে ৬ বছরের হিসাব: কে এলেন, কে গেলেন; কার সইয়ে কত ফাইল, গুদামের স্টক কতটা স্বচ্ছ?

ডিলার পয়েন্টে অনিয়মের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন — জবাবদিহিতায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক

খুলনা জেলা খাদ্য অফিসের কার্যক্রম নিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, টেন্ডার ও কাজ বরাদ্দের ফাইল, ওএমএস ডিলার নিয়োগ এবং খাদ্য গুদামের স্টক ব্যবস্থাপনা—সবকিছু নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ওএমএসের চাল-আটা বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলার পয়েন্টে অনিয়ম, নির্ধারিত সময় পণ্য না পাওয়া, তালিকাভুক্ত ভোক্তাদের অভিযোগ এবং ডিলার নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ওএমএস ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ কাজ করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা, যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন হওয়ার কথা।

তবে ভোক্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, অনেক সময় নির্ধারিত পয়েন্টে নিয়মিত পণ্য পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, পণ্য আসার তথ্য আগে থেকে না জানানো, সময়মতো বিক্রি না করা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

ওএমএসের পণ্য পায় না ভোক্তারা”

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের ওএমএস কর্মসূচি চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ—কার্ড বা তালিকায় নাম থাকার পরও অনেক সময় চাল-আটা সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন: ডিলারদের বিক্রয় রেজিস্টার যাচাই বরাদ্দ বনাম বিতরণের হিসাব মিলানো

নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের তদারকি অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া গুদামের স্টক হিসাব নিয়ে নজরদারির দাবি

খাদ্য গুদামের স্টক রেজিস্টার, গ্রহণ-বিতরণ হিসাব এবং বাস্তব মজুদের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না—তা নিয়মিত অডিট ও পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

প্রশ্ন উঠছে—কাগজের হিসাব ও বাস্তব মজুদ কি এক? ঘাটতি হলে দায় কার?

স্টক সমন্বয়ের অনুমোদন দিয়েছেন কে? দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী?

কার সইয়ে কত ফাইল?” — নথি যাচাইয়ের দাবি

গত তিন বছরের টেন্ডার, কাজ বরাদ্দ এবং ক্রয় সংক্রান্ত ফাইলে কোন কর্মকর্তা কতগুলো অনুমোদন দিয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি রয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জবাবদিহিতায় ডিসি ফুড মোহাম্মদ তানভীর হোসেন

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের কাছে এসব অভিযোগ ও প্রশ্নের বিষয়ে জবাবদিহিতা চাওয়া হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে ডিলার ব্যবস্থাপনা, গুদাম তদারকি ও খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজন সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের যাচাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

খুলনা খাদ্য অফিসে ৬ বছরের হিসাব: কে এলেন, কে গেলেন; কার সইয়ে কত ফাইল, গুদামের স্টক কতটা স্বচ্ছ?

আপলোড সময় ০২:০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ডিলার পয়েন্টে অনিয়মের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন — জবাবদিহিতায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক

খুলনা জেলা খাদ্য অফিসের কার্যক্রম নিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, টেন্ডার ও কাজ বরাদ্দের ফাইল, ওএমএস ডিলার নিয়োগ এবং খাদ্য গুদামের স্টক ব্যবস্থাপনা—সবকিছু নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ওএমএসের চাল-আটা বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলার পয়েন্টে অনিয়ম, নির্ধারিত সময় পণ্য না পাওয়া, তালিকাভুক্ত ভোক্তাদের অভিযোগ এবং ডিলার নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ওএমএস ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ কাজ করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা, যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন হওয়ার কথা।

তবে ভোক্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, অনেক সময় নির্ধারিত পয়েন্টে নিয়মিত পণ্য পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, পণ্য আসার তথ্য আগে থেকে না জানানো, সময়মতো বিক্রি না করা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

ওএমএসের পণ্য পায় না ভোক্তারা”

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের ওএমএস কর্মসূচি চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ—কার্ড বা তালিকায় নাম থাকার পরও অনেক সময় চাল-আটা সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন: ডিলারদের বিক্রয় রেজিস্টার যাচাই বরাদ্দ বনাম বিতরণের হিসাব মিলানো

নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের তদারকি অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া গুদামের স্টক হিসাব নিয়ে নজরদারির দাবি

খাদ্য গুদামের স্টক রেজিস্টার, গ্রহণ-বিতরণ হিসাব এবং বাস্তব মজুদের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না—তা নিয়মিত অডিট ও পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

প্রশ্ন উঠছে—কাগজের হিসাব ও বাস্তব মজুদ কি এক? ঘাটতি হলে দায় কার?

স্টক সমন্বয়ের অনুমোদন দিয়েছেন কে? দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী?

কার সইয়ে কত ফাইল?” — নথি যাচাইয়ের দাবি

গত তিন বছরের টেন্ডার, কাজ বরাদ্দ এবং ক্রয় সংক্রান্ত ফাইলে কোন কর্মকর্তা কতগুলো অনুমোদন দিয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি রয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জবাবদিহিতায় ডিসি ফুড মোহাম্মদ তানভীর হোসেন

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের কাছে এসব অভিযোগ ও প্রশ্নের বিষয়ে জবাবদিহিতা চাওয়া হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে ডিলার ব্যবস্থাপনা, গুদাম তদারকি ও খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজন সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের যাচাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।