খুলনা মহানগরীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত থাকলেও তা বিতরণে চরম ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঢাকা থেকে কার্ড আসতে ৩–৪ মাস সময় লাগছে। এদিকে প্রতিদিন ট্রাক সেলের মাধ্যমে মাত্র ৬ হাজার পরিবার টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছে। ফলে কয়েক লাখ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনছে।
খুলনা মহানগরীতে প্রায় ৬ লাখ পরিবারের বসবাস থাকলেও টিসিবির পণ্য নিয়মিত পাচ্ছে মাত্র ৬ হাজার পরিবার। এতে দীর্ঘদিন ধরে কার্ডের অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ, আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পরও মাসের পর মাস নয়, বছরের পর বছর ঘুরেও তারা স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাচ্ছেন না।
এমনই একজন ভুক্তভোগী মো. শাহীন হোসেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৩৭২২৬৮৩৮১৪ এবং টিসিবি কার্ডের সিরিয়াল নম্বর ২৩১৮। তিনি খুলনা মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিত ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ করছেন। প্রতিবারই তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়, কিন্তু আজও তার হাতে টিসিবির কার্ড পৌঁছেনি। ফলে তিনি টিসিবির স্বল্পমূল্যের পণ্য কেনার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন।
মো. শাহীন হোসেন বলেন, “এক বছরের বেশি সময় ধরে ওয়ার্ড অফিসে বারবার যাচ্ছি। প্রতিবারই বলা হয়, পরে আসেন বা কার্ড এখনও আসেনি। কিন্তু কবে পাব, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেন না।তিনি বলেন কার্ড আমার হয়েছে দিতে বিলম্ব হচ্ছে কার্ড হাতে না পেলে টিসিবি দেয়না পণ্য তাহলে আমার কার্ডের পণ্য কোথায় যাচ্ছে। এই অনিয়ম দুর্ণীতির তদন্ত আশুপ্রয়োজন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেশি। টিসিবির পণ্য পেলে পরিবারের খরচ কিছুটা কমত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু একজন নন, একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন আরও অনেক আবেদনকারী। কারও কার্ড প্রস্তুত হলেও বিতরণ হচ্ছে না, আবার কেউ আবেদন করার পর কোনো অগ্রগতির তথ্যই জানতে পারছেন না। এতে টিসিবির কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত থাকার পরও দীর্ঘদিন বিতরণ না হওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা ব্যবস্থাপনার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সরকারের এই সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে দ্রুত সব প্রস্তুত কার্ড বিতরণ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের নিয়মিত টিসিবির পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে টিসিবির কার্যক্রম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কার্ড প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন মানুষের হাতে না পৌঁছানো শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি উদ্বেগজনক চিত্র বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা ব্যুরো 























