সরকারের প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল টাঙ্গাইলের বাসাইল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে মামলা, তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনো গ্রেফতার হননি মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগ উঠেছে,সংশ্লিষ্ঠ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বাসাইল সখিপুর সংসদীয় আসনের এমপি আহমেদ আযম খানের কঠোর নির্দেশনার পরও মামলার প্রধান অভিযুক্ত এসএম জাহাঙ্গীর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক সাবঠিকাদারকে আটক করা হলেও মূল ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর ঘাটাইল উপজেলা প্রকৌশলী সফিকুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে নির্মাণাধীন ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম চলছিল। রাতের আঁধারে কাজ করার সময় গত ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা দেখতে পান, ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরই মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করেন। মামলায় ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সাব-ঠিকাদার শাহ আলমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে।
এ ঘটনায় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বাসাইল থেকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেতুটি পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রাথমিক আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে। দুদক টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, “ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার পরীক্ষা করে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় পরিমাণ রড নেই। বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সেতুটি পরিদর্শন করেছেন এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
এদিকে, বাসাইল-সখিপুর আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল ও দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়েও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মন্ত্রীসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পরও মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল থেকে 















