বাংলা লোকসংগীতের একজন সনামধন্য শিল্পী রানী শেখ এলিজা। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে নিজেকে গেঁথে রেখেছেন। দেশ-বিদেশে সংগীত পরিবেশন করে অর্জন করেছেন ব্যাপক সুনাম। বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রায় অর্ধশত সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য গান।
তাঁর বেশ কয়েকটি একক ও মিশ্র অ্যালবাম জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রঙিলা বন্ধু’, ‘মার ছক্কা’, ‘গোপনে পালাই’, ‘চেহারা ঝাকানাকা’ ও ‘সবে তো শুরু আমার’।
সংগীতচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা ও মানবসেবায়ও নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন এই শিল্পী। তিনি ‘এলিজা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেবা সংস্থার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাধ্যমে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
রানী শেখ এলিজা বলেন, “আমি আমার সংগীতের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের দেশে শিল্পীদের রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে হেনস্তা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকারও হতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে আজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়েছে।
তবে যেখানেই থাকি, সংগীতচর্চা ও মানবসেবা সমানভাবে চালিয়ে যাবো — এটাই আমার ওয়াদা।যুক্ত রাষ্ট্রে এসেও থেমে নেই, বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করছি। অনেকগুলো নতুন গান নিয়ে কাজ করছি। আশাকরি আগামী নতুন বছরের শুরুতেই আমার শ্রোতাদের জন্য নতুন কিছু চমক নিয়ে আসতে পারবো! ইদানীং যুক্ত রাষ্ট্র থেকে আমার ২টি মৌলিক গান বেরিয়েছে।শিরোনাম: ‘এতো ভালোবাসা আমি রাখবো কোথায় ও ভালোবাসা পাই বা না পাই’
গানের গীতিকার ও সুরকার: আতিকুর রহমান লিটন। কম্পোজিশন: সাত্তার মাহমুদ।
আমি তারকা হতে চাই না, আমি সেবিকা হতে চাই। আমার সংগীতের সুর দিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই অনেকদিন।”
নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই মহৎ উদ্যোগ সফল হোক। একজন মহৎ সংগীতশিল্পী রানী শেখ এলিজা এর নিরাপদ জীবন প্রতিষ্ঠিত হোক। তাঁর কোকিল কণ্ঠে বাংলা গানের সুর ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময় — এমনটাই প্রত্যাশা।
আনিসুর রহমান মোল্লা 





















