ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন, নিউজ না করতে সাংবাদিককে অনুরোধ রবি ঠাকুরের দেওয়ালচিত্রের ছবি আাঁকার কাজ পুনরায় শুরু ঘটনাস্থল পরিদর্শন কেসিসি প্রশাসকের খুলনায় এবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চট্টগ্রামের লোহাগড়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলাবাজির অভিযোগ স্থায়ী পরিচালক নন, তবুও ৩১ মিশনের নিয়ন্ত্রণ! চলতি দায়িত্বে ডা. শাহানা আফরোজের ক্ষমতার উৎস কোথায়? ব্যক্তি, পরিবার, উম্মাহ ও স্বদেশের কল্যাণে ভবিষ্যত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে – মাওলানা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের নতুন জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খান রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১ সান্তাহার থেকে গাবতলীর তিন এলএসডিতে গেল শুধু কাগজ, অর্ধকোটি টাকার সরকারি চাল ব্যবসায়ীর গুদামে!! এইচএসসিতে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ফলাফলে তালা মহিলা কলেজে আনন্দ উৎসব

স্থায়ী পরিচালক নন, তবুও ৩১ মিশনের নিয়ন্ত্রণ! চলতি দায়িত্বে ডা. শাহানা আফরোজের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দায়িত্ব প্রদান, বদলি ও হজ মেডিকেল টিম গঠন নিয়ে প্রশ্ন; আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ইসলামিক মিশন বিভাগের পরিচালক পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নন তিনি। মূল পদ সিনিয়র মেডিকেল অফিসার। অথচ পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শাহানা আফরোজ। অভিযোগ উঠেছে, এই সাময়িক দায়িত্বে থেকেই তিনি দেশের ৩১টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম, যাকাত ফান্ডের সমন্বয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং হজ মেডিকেল টিম গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভেতরে তাঁর ক্ষমতার পরিধি, দায়িত্ব প্রদানের যৌক্তিকতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ডা. শাহানা আফরোজ ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইসলামিক মিশন বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর কর্মস্থল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, পরিচালক পদে স্থায়ী নিয়োগ না থাকলেও তিনি কার্যত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।
চলতি দায়িত্বের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা কী?
সরকারি প্রশাসনে চলতি দায়িত্ব প্রদান একটি সাময়িক ব্যবস্থা। এটি স্থায়ী পদোন্নতি বা পদে নিয়মিত নিয়োগের সমতুল্য নয়। সংশ্লিষ্ট বিধি ও আদেশের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ডা. শাহানা আফরোজের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্বের সীমা কতটুকু? তিনি কোন বিধি বা ক্ষমতাবলে ৩১টি ইসলামিক মিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বদলি এবং হজ মেডিকেল টিম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন?
ইসলামিক মিশন বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং যাকাত ফান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। ফলে এ বিভাগের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দায়িত্ব প্রদান?
দায়িত্ব প্রদান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে জ্যেষ্ঠতা বিবেচনার বিষয়টি ঘিরে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সিনিয়র মেডিকেল অফিসারদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ১৫ জনের মধ্যে ডা. শাহানা আফরোজের অবস্থান ছিল ১৪তম। তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হলো, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
কোন প্রশাসনিক বিবেচনায় তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং নিয়োগসংক্রান্ত আদেশে কী যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছে—এসব বিষয়ের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বদলি ও হজ মেডিকেল টিম নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দপ্তরের একাংশের অভিযোগ, ডা. শাহানা আফরোজ চলতি দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং সরকারি হজ মেডিকেল টিমে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হজ মেডিকেল টিমে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং বিশেষ মহলের সুপারিশ প্রাধান্য পেয়েছে। এমনকি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে গুরুতরভাবে সামনে নিয়ে আসবে। আর অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্টদেরও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
বদলি আদেশ, শিক্ষাছুটি ও বারবার হজ টিমে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
তাঁর বিরুদ্ধে বদলি আদেশ অমান্য, শিক্ষাছুটি গ্রহণ এবং একাধিকবার হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আদেশ, ছুটির অনুমোদন, বদলি-সংক্রান্ত নথি এবং হজ মেডিকেল টিমের সদস্য নির্বাচনের তালিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
একই ব্যক্তির বারবার হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, অন্য যোগ্য কর্মকর্তারা সুযোগ পেয়েছেন কি না এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর চায় সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত?
ডা. শাহানা আফরোজের চলতি দায়িত্বে বহাল থাকা নিয়েও ফাউন্ডেশনের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পাওয়ার সময় তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ দাবি করছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্ব প্রদান, ক্ষমতার পরিধি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ডা. শাহানা আফরোজকে কোন প্রশাসনিক বিবেচনায় পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হয়েছে? জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তাঁর অবস্থান কত নম্বরে? তাঁর হাতে অর্পিত ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট পরিধি কী? বদলি ও হজ মেডিকেল টিম গঠনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্টভাবে আসা প্রয়োজন।
জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?
ইসলামিক মিশন কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের ক্ষেত্র নয়; এটি জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কার্যক্রম। এখানে চিকিৎসাসেবা, যাকাত ব্যবস্থাপনা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং হজসংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বিধিবদ্ধ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।
ডা. শাহানা আফরোজ স্থায়ী পরিচালক নন, তিনি চলতি দায়িত্বে রয়েছেন—এটি প্রশাসনিক বাস্তবতা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি অর্পিত ক্ষমতার সীমা যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ডা. শাহানা আফরোজের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন, নিউজ না করতে সাংবাদিককে অনুরোধ

স্থায়ী পরিচালক নন, তবুও ৩১ মিশনের নিয়ন্ত্রণ! চলতি দায়িত্বে ডা. শাহানা আফরোজের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

আপলোড সময় ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দায়িত্ব প্রদান, বদলি ও হজ মেডিকেল টিম গঠন নিয়ে প্রশ্ন; আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ইসলামিক মিশন বিভাগের পরিচালক পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নন তিনি। মূল পদ সিনিয়র মেডিকেল অফিসার। অথচ পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শাহানা আফরোজ। অভিযোগ উঠেছে, এই সাময়িক দায়িত্বে থেকেই তিনি দেশের ৩১টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম, যাকাত ফান্ডের সমন্বয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং হজ মেডিকেল টিম গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভেতরে তাঁর ক্ষমতার পরিধি, দায়িত্ব প্রদানের যৌক্তিকতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ডা. শাহানা আফরোজ ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইসলামিক মিশন বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর কর্মস্থল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, পরিচালক পদে স্থায়ী নিয়োগ না থাকলেও তিনি কার্যত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।
চলতি দায়িত্বের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা কী?
সরকারি প্রশাসনে চলতি দায়িত্ব প্রদান একটি সাময়িক ব্যবস্থা। এটি স্থায়ী পদোন্নতি বা পদে নিয়মিত নিয়োগের সমতুল্য নয়। সংশ্লিষ্ট বিধি ও আদেশের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ডা. শাহানা আফরোজের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্বের সীমা কতটুকু? তিনি কোন বিধি বা ক্ষমতাবলে ৩১টি ইসলামিক মিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বদলি এবং হজ মেডিকেল টিম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন?
ইসলামিক মিশন বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং যাকাত ফান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। ফলে এ বিভাগের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দায়িত্ব প্রদান?
দায়িত্ব প্রদান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে জ্যেষ্ঠতা বিবেচনার বিষয়টি ঘিরে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সিনিয়র মেডিকেল অফিসারদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ১৫ জনের মধ্যে ডা. শাহানা আফরোজের অবস্থান ছিল ১৪তম। তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হলো, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
কোন প্রশাসনিক বিবেচনায় তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং নিয়োগসংক্রান্ত আদেশে কী যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছে—এসব বিষয়ের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বদলি ও হজ মেডিকেল টিম নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দপ্তরের একাংশের অভিযোগ, ডা. শাহানা আফরোজ চলতি দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং সরকারি হজ মেডিকেল টিমে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হজ মেডিকেল টিমে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং বিশেষ মহলের সুপারিশ প্রাধান্য পেয়েছে। এমনকি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে গুরুতরভাবে সামনে নিয়ে আসবে। আর অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্টদেরও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
বদলি আদেশ, শিক্ষাছুটি ও বারবার হজ টিমে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
তাঁর বিরুদ্ধে বদলি আদেশ অমান্য, শিক্ষাছুটি গ্রহণ এবং একাধিকবার হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আদেশ, ছুটির অনুমোদন, বদলি-সংক্রান্ত নথি এবং হজ মেডিকেল টিমের সদস্য নির্বাচনের তালিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
একই ব্যক্তির বারবার হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, অন্য যোগ্য কর্মকর্তারা সুযোগ পেয়েছেন কি না এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর চায় সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত?
ডা. শাহানা আফরোজের চলতি দায়িত্বে বহাল থাকা নিয়েও ফাউন্ডেশনের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পাওয়ার সময় তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ দাবি করছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্ব প্রদান, ক্ষমতার পরিধি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ডা. শাহানা আফরোজকে কোন প্রশাসনিক বিবেচনায় পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হয়েছে? জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তাঁর অবস্থান কত নম্বরে? তাঁর হাতে অর্পিত ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট পরিধি কী? বদলি ও হজ মেডিকেল টিম গঠনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্টভাবে আসা প্রয়োজন।
জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?
ইসলামিক মিশন কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের ক্ষেত্র নয়; এটি জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কার্যক্রম। এখানে চিকিৎসাসেবা, যাকাত ব্যবস্থাপনা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং হজসংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বিধিবদ্ধ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।
ডা. শাহানা আফরোজ স্থায়ী পরিচালক নন, তিনি চলতি দায়িত্বে রয়েছেন—এটি প্রশাসনিক বাস্তবতা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি অর্পিত ক্ষমতার সীমা যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ডা. শাহানা আফরোজের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।