কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) ছাড়াই দাফন করার ঘটনায় এখনো জনগণের মাঝে আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা এ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
গত ৫ নভেম্বর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মী পাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। ওই দিন বিকেলে মরদেহ গ্রামে আনা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই গার্ড অব অনার দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
কিন্তু মরদেহ পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা বেজে যায়। উপজেলা প্রশাসনের কোনো ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকায় শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ ও বিউগল দল ঘটনাস্থলে প্রস্তুত ছিল। তবে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া পুলিশ একা এই সম্মাননা দিতে পারে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন্নী ইসলাম জানান, সূর্যাস্তের পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই। মরদেহ আসার সময় নিয়েও দ্বিধা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো – দায়িত্বে অবহেলার এই ঘটনা নিয়ে যেন নিউজ না করা হয়, সে জন্য সাংবাদিককে অনুরোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও বেড়েছে।
ঘটনার পর কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেন এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইউএনও’র কাছে লিখিত জবাব তলব করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে এখনো পর্যন্ত লিখিত জবাবের ফল বাহির হয় নাই। আর এই কারণেই উপজেলার মধ্যে উদ্বেগজনক ভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। মানুষ জানতে চায়, জবাব কী আসলো, দায় কার ছিল, আর ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে স্পষ্ট জবাব প্রকাশ করা হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত ফল প্রকাশ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আলোচনা থামবে না।
আনিসুর রহমান মোল্লা 




















