মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের বিরুদ্ধে হাই-পাওয়ার তদন্তের সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
গত রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ২য় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে সুপারিশ করা হয়েছে। এই সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হয়ে স্পিকার পর্যন্ত যাবে। তিনি আরও বলেন, ঘুষ দুর্নীতি করে সম্পদের আখড়া বানিয়ে কেউ ছাড় পাবে না।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মাউশিকে ব্যক্তিগত দপ্তরে পরিণত করে ঘুষ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় এই বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। ধারাবাহিক রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন সংসদের নজরে এসেছে। আর সংসদে বিষয়টি ওঠার পর থেকেই শিক্ষা খাতসহ সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গেছে।
প্রকাশিত ধারাবাহিক রিপোর্টগুলোতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ অর্জন করেন। রিজেক্ট হওয়া ফাইল অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্ত করা, তদন্ত ছাড়াই এমপিও স্থগিত ও পুনর্বহাল, ভুয়া তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং বদলি বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শুধু মাধ্যমিক শাখার পরিচালক থাকাকালেই তিনি প্রায় ৫১ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্পদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে — রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় সাড়ে সাততলা বাড়ি, একই এলাকায় ছয় কাঠা জমি, কক্সবাজারে ফ্ল্যাট, মেরিন ড্রাইভে প্লট, দুবাই ও কানাডায় সম্পদ এবং গাজীপুরে রিসোর্ট।
এদিকে মাউশির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ অসম্পূর্ণ তথ্য ও অনুমাননির্ভর।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি জানান, স্থায়ী কমিটি কাউকে সাসপেনশন বা অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। কমিটি তদন্ত করে সুপারিশ করে। তিনি বলেন, এটি একটি হাই-পাওয়ার তদন্ত কমিটি হবে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এই বিষয়ে তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন তাকিয়ে আছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
আনিসুর রহমান মোল্লা 





















