পদ্মা অয়েল পিএলসির নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ৮১ লাখ টাকা মূল্যের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল (জেট এ-১) উধাও হয়ে গেছে। কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে যে তেল ঢাকার কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে, কিন্তু বাস্তবে চারটি ট্যাংকলরিতে বোঝাই করা তেল কখনোই গন্তব্যে পৌঁছায়নি।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের ১১ মার্চ।
ঘটনার বিবরণ
পদ্মা অয়েলের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল বোঝাই করে চারটি ট্যাংকলরি ঢাকার কুর্মিটোলা ডিপোর উদ্দেশে রওনা দেয়। কাগজপত্র অনুসারে, লরিগুলো ডিপোতে প্রবেশ করে তেল খালাস করেছে বলে দেখানো হয়। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, লরিগুলো আসলে কুর্মিটোলা ডিপোতে ঢোকেইনি।
এই চুরির মাধ্যমে প্রায় ৮১ লাখ টাকার জেট ফুয়েল গায়েব হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত চলছে
পদ্মা অয়েল পিএলসি ঘটনাটির তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে কাগজপত্রে জালিয়াতি, সংশোধন, মুছে ফেলা এবং ভুয়া স্বাক্ষরের প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
পদ্মা অয়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিক্রিয়া
জেট ফুয়েল বিমানবন্দরগুলোতে বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের চুরি শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, জাতীয় স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত শুরু করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে পরিবহন ও খালাস প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ শিরোনাম
‘কাগজে’ আছে, বাস্তবে নেই — ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব
পদ্মা অয়েলের ৮১ লাখ টাকার জেট ফুয়েল উধাও
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপলোড সময় ১১:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- 21
Tag :















