অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন
চার বছর আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। লক্ষ্য ছিল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। দারুণ পাসিং, বল দখল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে একের পর এক চাপে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচজুড়েই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারলেও আক্রমণে স্পেন ছিল অনেক বেশি কার্যকর।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় নিকো উইলিয়ামসের তৈরি করা সুযোগ থেকে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করেন। সেই গোলেই বিশ্বকাপের শিরোপা নিশ্চিত হয় স্পেনের।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। পুরো ১২০ মিনিটে দলটি গোলমুখে কার্যকর কোনো শটই নিতে পারেনি। স্পেনের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দুর্দান্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলল স্পেন। একই সঙ্গে ইউরো ২০২৪-এর শিরোপার পর বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করল তারা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের ধারাবাহিক সাফল্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক স্বর্ণযুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বকাপজয়ী স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত আক্রমণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রশংসিত।
অন্যদিকে, এই পরাজয় লিওনেল মেসির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। অনেকের মতে, এটিই হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মেসিকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেই মুহূর্তটি হয়ে ওঠে ফাইনালের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়লেন লামিনে ইয়ামাল। ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপও জিতে তিনি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ সুপারস্টার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন।
ফাইনালের ফলাফল:
স্পেন ১–০ আর্জেন্টিনা (অতিরিক্ত সময়)
গোল: ফেরান তোরেস (১০৬ মিনিট)
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল স্পেন। আর আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য এটি হয়ে রইল এক অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প—যেখানে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছানি দিয়েও অধরা থেকে গেল।
শাহিন হোসেন 























