নেত্রকোনায় রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার ও নিরাপত্তায় এক প্লাটুন বিজিবি
রাতের আঁধারে বড় বাজারে যখন আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছিল একের পর এক দোকান, তখন আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতভর কাজ করেন বিজিবি সদস্যরা।
গতরাত আনুমানিক ৯টার দিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বড় বাজারের খাসিমহল এলাকায় মজুমদার ইলেকট্রনিক্সসহ কয়েকটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারীর নির্দেশে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। একই সঙ্গে আগুনের বিস্তার ঠেকানো, দোকান ও স্থাপনার মালামাল রক্ষা এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর রাত ২টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে মজুমদার ইলেকট্রনিক্স, সুচিত্রা খেলনা ঘরসহ মোট ছয়টি দোকান ও একটি বসতবাড়ি পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতার মধ্যেও বিজিবির সদস্যরা শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মালামাল উদ্ধারে সহায়তা এবং আশপাশের দোকানপাট ও স্থাপনার নিরাপত্তায়ও দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এমন তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা অগ্নিকাণ্ডের সময় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে না দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি 






















