ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে স্বাবলম্বী করল আইএফএসডি ফাউন্ডেশন গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকা থেকে হিরোইনসহ ৪ জন গ্রেফতার তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত মানবতার সেবায় ও মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিকসন খাঁন  খুলনায় ক্রিসেন্ট জুট মিলে ফিড কারখানা চালু করার প্রতিবাদে পাটকল শ্রমিকদের মানববন্ধন খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের তিন হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে ঘিরে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা দশম গ্রেডের চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদ! চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েমকে ঘিরে তোলপাড়  মিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ আশিক বাহিনীর ক্যাডার শিবলী গ্রেফতার

খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের তিন হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার

খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের তিন হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে ও গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

পুরস্কার বিতরণ উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) জনাব ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন, সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মন্ডল এবং প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।

সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আলোকিত প্রজন্ম গড়তে বই পড়ার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীল সাহিত্য ও ভালো বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ভালো বই কেবল গল্পই বলে না, বরং পাঠকের মনের কথাও শোনে।

তারা বলেন, যখন মানুষ বইপড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবে তখন মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমবে। তাই সবাইকে বেশি বেশি বই পড়তে হবে।

বইপড়াকে নেশা ও অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, বই মানুষকে বদলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনার পরিধি বৃদ্ধি করে। বই পড়ার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞান ভান্ডার বৃদ্ধি করতে হবে। সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত বিজ্ঞানভিত্তিক বই পড়ার পরামর্শ দেন তারা। তারা উল্লেখ করেন বইপড়াকে সহজ করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছে।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই উৎসবে নগরীর ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি স্কুলের ২ হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের ২ হাজার ২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১ হাজার ১৪৬ জন ছেলে ও ২১২৩ জন মেয়ে।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে স্বাবলম্বী করল আইএফএসডি ফাউন্ডেশন

খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের তিন হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার

আপলোড সময় ০৮:৪৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের তিন হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে ও গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

পুরস্কার বিতরণ উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) জনাব ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন, সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মন্ডল এবং প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।

সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আলোকিত প্রজন্ম গড়তে বই পড়ার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীল সাহিত্য ও ভালো বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ভালো বই কেবল গল্পই বলে না, বরং পাঠকের মনের কথাও শোনে।

তারা বলেন, যখন মানুষ বইপড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবে তখন মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমবে। তাই সবাইকে বেশি বেশি বই পড়তে হবে।

বইপড়াকে নেশা ও অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, বই মানুষকে বদলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনার পরিধি বৃদ্ধি করে। বই পড়ার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞান ভান্ডার বৃদ্ধি করতে হবে। সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত বিজ্ঞানভিত্তিক বই পড়ার পরামর্শ দেন তারা। তারা উল্লেখ করেন বইপড়াকে সহজ করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছে।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই উৎসবে নগরীর ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি স্কুলের ২ হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের ২ হাজার ২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১ হাজার ১৪৬ জন ছেলে ও ২১২৩ জন মেয়ে।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।