ঠাকুরগাঁও এল জি ই ডির কর্মকর্তারা নিজেদের অনিয়ম আর দুর্নীতি ঢাকতে এবার অভিনব এক পন্থা হাতে নিয়েছেন। তারা নিজেদের অফিসের এক দুশ্চরিত্রা টিকটকার নারীকে ব্যবহার করছেন সাংবাদিক আর বিশেষ বিশেষ কিছু ,মানুষের বিরুদ্ধে।এই নারীকে অফিসের কাজ থেকে বিরত রেখে টিকটক ভিডিও তৈরি করতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এই নারী টিকটকারকে নিয়ে এখন জেলার সাধারণ মানুষ আর সাংবাদিকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।

ইতি মনি নামের এই নারী ঠাকুরগাঁও এল জি ই ডি দপ্তরের একজন সিনিয়র স্টাফ। তাকে কখনই কোন টেবিলে বসে কাজ করতে দেখা যায়না।সারা দিন শহরে ঘোরাঘুরি করে ভিডিও তৈরি করাই তার প্রধান কাজ। এ কাজে তাকে সহযোগীতা করে থাকেন খোদ ওই দপ্তরেরই নির্বার্হী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা। সাংবাদিকরা যখন এই দপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির খবর প্রকাশ করেন বা করার জন্য তথ্য আনতে এই দপ্তরে যান তখনওই এই নারী তার ভিডিও করতে থাকেন। বিভিন্ন সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের বাসা বাড়িতে গিয়েও তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করেন। মাত্র ষোল বছর বয়সে এলজিইডি অফিসে যাতায়ত শুরু করেন ইতি মণি। নিজের রুপ যৌবনকে ব্যবহার করে খুব দ্রুতই দপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে পড়েন। আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ওই অফিসেই একটি চাকরি হয়। দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে ইতিমনি নামের নারী এই অফিসে চাকরি করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন।এই সুযোগ কাজে লাগায় এই দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা ইতিমনিকে একজন টিকটকার হতে পূর্ন সহায়তা করেন এবং অফিসের কাজ থেকে ছাড় দেন। এই ইতিমনিকে বিভিন্ন সাংবাদিক আর সম্মানী মানুষের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অফিসের লাগামহীন দুর্নীতি ঢেকে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিব্রত হয়ে জেলার একজন সিনিয়র সাংবাদিক ইতিমনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করে এলজিইিডর নির্বাহী প্রকৌশলীর বরারবরে আবেদনও করেন। ওই সাংবাদিক নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে জেলা পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি লিখিত ভাবে অবগত করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের নিকট গিয়ে এই নারী টিকটকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস আশ্বাস দিয়ে বলেন আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্ত বাস্তবে তিনি তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপই নেননি।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইকপাড়া-কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে” সড়ক নির্মানে দুর্নীতির মহোৎসবে কে চ্যাম্পিয়ন,প্রকৌশলী না কি ঠিকাদার ” শিরোনামে লাগামহীন দুর্নীতির খবর প্রকাশ হলে নির্বাহী প্রকৌশলী এই নারী টিকটকারকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়ে তাদের বিব্রত করে নিজের দুর্নীতি আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিক সমাজ আশা প্রকাশ করেন যে অবিলম্বে এই নারী টিকটকারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিয়ে ঠাকুরগাঁও এল জি ই ডি অফিসের ভাবমূর্তি রক্ষা করা হবে।
মনতোষ কুমার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ 
























