সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে স্ত্রী মুক্তি সরকারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জোরপূর্বক সন্তান নষ্ট করা এবং পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় খবর প্রকাশিত হলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বদলি করা হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দারের জামিন না মঞ্জুর বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নজরুল ইসলাম উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
তথ্য সূত্রে,বিজয় কুমার জোয়ার্দার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ছোনগাছা গ্রামের পরিমল জোয়ার্দারের ছেলে।
মুক্তি সরকারের দাবি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ভালোবেসে কোর্ট ম্যারেজ করলেও ২০২১ সালে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিজয় তখন ছাত্র এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। মুক্তির উপার্জনের টাকা দিয়ে বিজয় পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর থেকেই বিজয়ের আচরণ বদলে যায়। তিনি বারবার যৌতুকের জন্য চাপ দেন এবং বাড়ি করার জন্য জমি লিখে দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, চাকরিতে সমস্যার দোহাই দিয়ে বিজয় তাকে একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছেন। সম্প্রতি সন্তান গ্রহণের চিকিৎসার জন্য মুক্তিকে কৌশলে ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠিয়ে দিয়ে বিজয় কুমার জোয়ার্দার ফাগুনি সুমি কাসারি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত) নামে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় সম্পর্ক জড়িয়ে পড়েন।
মুক্তি বলেন, “আমার সুখের সংসার ধ্বংসের পথে। বিজয় আমাকে বারবার বাধ্য করেছে সন্তান নষ্ট করতে।
মুক্তিকে চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠিয়ে পরে নিজে সেখানে যাওয়ার কথা বলেন বিজয়। মুক্তি ভারতে অবস্থানকালে জানতে পারেন, সুমি আশাশুনিতে বিজয়ের সঙ্গে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে মুক্তা দ্রুত ভারত থেকে আশাশুনিতে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর কাছে বাবার বাড়ি থেকে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার দাবি করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তাকে মারধর করা হয় এবং পরদিন পর্যন্ত তাঁকে আটকে রাখা হয়। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। ৪ মার্চ স্বামী বিজয় জোয়ার্দার, শ্বশুর পরিমল কুমার জোয়ার্দার, শাশুড়ি ঊষা রানী জোয়ার্দার, ভাসুর পরিতোষ কুমার জোয়ার্দার ও সুমি কাসারীকে আসামি করে আশাশুনি থানায় মামলা করেন মুক্তা।
মামলার পর বিজয় কুমার জোয়ার্দার হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে মীমাংসার শর্তে অস্থায়ী জামিনে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে তাঁকে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
সোমবার বিজয় জোয়ার্দারের পক্ষে আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান পিন্টু স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাশিদুজ্জামান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিজয় জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ বিজয় জোয়ার্দারের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুক্তি সরকার আক্ষেপ করে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এমন আচরণ করেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে ? আমি বিজয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সাতক্ষীরা অফিস 



















