হাইকোর্টের আদেশ থাকলেও হঠাৎ ভর্তুকির চাল-আটা বিক্রি স্থগিত, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরলেন হাজারো মানুষ
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১৬টি ওয়ার্ডে সরকারের খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সোমবার সকাল থেকে সব ওএমএস আউটলেটে ভর্তুকির চাল ও আটা বিক্রি স্থগিত করে খাদ্য অধিদপ্তর।
সোমবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে শত শত নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু আউটলেটে গিয়ে জানতে পারেন, চাল ও আটা বিতরণ বন্ধ রয়েছে। অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।
ওএমএস কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতি কেজি ৩০ টাকায় চাল এবং ২৪ টাকায় আটা কিনতে পারতেন, যেখানে বাজারে একই চালের দাম ৫৫–৬০ টাকা।
নিম্ন আয়ের মানুষের কান্না
রিনি বেগম বলেন, তাঁর স্বামী চাকরি হারিয়ে এখন ভ্যান চালান। সংসারে অভাবের কারণে ওএমএসের চালই ছিল তাদের প্রধান ভরসা।
“সকালে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। পরে জানানো হলো চাল দেওয়া হবে না। খালি হাতে ফিরে এসেছি।”
তিন সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর ওএমএসের চালেই সংসার চলে।
“এখন বাজারের দামে চাল কিনতে পারব না। ওএমএস বন্ধ থাকলে খাবার কমিয়ে দিতে হবে।”
কেন বন্ধ হলো ওএমএস?
জানা গেছে, ওএমএস ডিলারশিপ নিয়ে চলমান আইনি জটিলতার কারণে এই স্থগিতাদেশ। নতুন ওএমএস নীতিমালায় ১৬ জন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল হলে তারা হাইকোর্টে রিট করেন।
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট ডিলারশিপ বাতিলের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে সেই আদেশ কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর রাখা হয়।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী সাঈদুজ্জামান মোল্লা বলেন, আদালতের সত্যায়িত আদেশ ও অনলাইন কপি খাদ্য বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। ট্রেজারি চালান জমা দেওয়ার পরও ডিলারদের চাল ও আটা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ওএমএস ডিলার চাঁদ মিয়া সেলিম জানান, ২৩ আগস্ট চালান জমা দিলেও ২৪ আগস্ট বরাদ্দ পাননি।
খাদ্য বিভাগের বক্তব্য
খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নাইম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, হাইকোর্টের আদেশটি যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।
“আইনি মতামত পাওয়ার পর ওএমএস চালু বা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
জনদুর্ভোগ বাড়ছে
ওএমএস বন্ধ থাকায় খুলনার নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী, রিকশাচালক, গৃহকর্মী ও দিনমজুর পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, আইনি জটিলতার অজুহাতে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যাহত করা উচিত নয়। দ্রুত ওএমএস কর্মসূচি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ব্যুরো চীফ, খুলনা 
























