ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ! কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে! সাতক্ষীরার বহুরুপী চৈতালি মুখার্জি, কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি! হাইব্রিড নেত্রী  সাতক্ষীরা এলজিইডির মুকুট হীন রাজা হাওলাদারের দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে? জাতীয় জনতা পার্টির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খানের মাজার জিয়ারত যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৬৮৪ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন যশোরে তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রবাসী স্বামীর আইনি লড়াই এভাবে আর কোনো পুলককে  গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না সাতরাস্তা ফ্লাইওভারে সিএনজির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আহত রূপগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী শূট্যার শাকিল গ্রেপ্তার

কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে!

সম্প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ভারতের ‘দ্যা ওয়াল’এর সাথে একটি সাক্ষাৎকারে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে কিভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা হবে তার একটি ধারণা দিয়েছেন মাত্র। অথচ সেই ধারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক উদ্যোগী হয়ে কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র জনাব শেখ হেলালের বাসায় অন্তত ২০/২২ জন লোক নিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে শেখ সেলিমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে নানকের পক্ষের লোকজনরা প্রথমে শেখ হেলালের কাছে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কবির নিজেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তার সাথে থাকা লোকজনও জাহাঙ্গীর কবির নানককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার দাবি জানিয়ে ব্যাপক হট্টগোল করেন।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও কলকাতার স্থানীয় অন্তত দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জামাতের এমপি শাজাহান চৌধুরীর কাছ থেকে একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহযোগিতা এনে জাহাঙ্গীর কবির নানক সাহেবকে দিচ্ছে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।

এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর অঞ্চলের মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন মাফিয়া গ্রুপের বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী যারা জামাত এবং বিএনপির সমর্থক তাদের মাধ্যমেও ফান্ড কালেকশন করে জাহাঙ্গীর কবির নানক কলকাতায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এসব অর্থ দিয়ে মূলত কলকাতার অখ্যাত প্রথম কোলকাতাসহ অনেক পত্রিকার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ন্যারিটিভ প্রচার করানো হচ্ছে যে, ‘নেত্রীর এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না’।

কোলকাতার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর কবির নানক অন্তত ২০০ কোটি টাকা ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গেলে এই বিনিয়োগের টাকা অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে এই মুহূর্তে তারা দেশে ফিরতে রাজি নন এবং নেত্রী যাতে দেশে ফিরে না যান তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা তারা করে যাচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রাপাত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিপদসংকুল সময় যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে ভারতের কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিল। তখন সবাই চেষ্টা করেছিল কলকাতায় অবস্থানরত দলীয় হাইকমান্ড থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা যোগাযোগের ভিতর থেকে সিদ্ধান্তে আসা।

কিন্তু প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্পূর্ণ আলাদাভাবে নিজে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট নিয়ে সেখানে তাঁর বলয়ের লোকজন নিয়ে গ্রুপিং শুরু করে এবং কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে নিজের পক্ষে টানার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা করতে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে আর্থিক প্রলোভন দিয়ে বিপদগ্রস্ত অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়।

একইভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাসিমও সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিজস্ব লোকজন নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করে আলাদাভাবে নিজস্ব বলয় তৈরি করে রাখেন ।

উল্লেখিত, দুজন নেতার পরস্পর বিরোধী অবস্থানে জড়িয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেক উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি করেছেন। কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীই তাদের এই ক্যাচাল সম্পর্কে অবগত আছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিম একটি অফিস খুলে সেখানে দলীয় নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাসিম সাহেব আলাউদ্দিন নাসিমের কাছে অনেকটা ধমকের সুরে জানতে চান, আপনি এই অফিস খুলেছেন কেন? জবাবে আলাউদ্দিন নাসিম সাহেব যখন বাহাউদ্দিন নাসিমকে বলেন যে, নেত্রীর নির্দেশে আমি অফিস খুলেছি তখন বাহাউদ্দিন নাসিম চুপ করে যান।

এদিকে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দিন নাসিম দুজনই তাদের লোকদের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশসহ কলকাতায় অবস্থানরত নেতাকর্মীদের যারা তাদের বলয়ের বাইরে রয়েছে তাদেরকে শায়েস্তা করার জন্য সর্বোচ্চ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন সেই ৫ আগস্ট এর পর থেকেই।

আজ দুই বছর হতে চললেও কলকাতায় অবস্থানরত সব শ্রেণীর নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো মিটিং বা আলোচনা সভা করা সম্ভব হয়নি তাদের দুজনের পরস্পরবিরোধী কার্যক্রমের কারণে।

অনেক নেতাকর্মী বাহাউদ্দিন নাসিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাথে ফোনে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের সাথে দেখা করার ইচ্ছা পোষণ কিংবা রাজনৈতিক পরামর্শ চাইলে তারা সুকৌশলে বিভিন্ন সময়ে সেটি এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে ৫ আগস্ট এর পর থেকেই অনলাইনে কিছু উদ্যমী মুজিব সৈনিকরা ফেসবুকে ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামক একটি অনলাইন পত্রিকা পরিচালনা করে আসছিল এবং যাদের কার্যক্রমে সারা বাংলাদেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উৎসাহ পেতো। কিন্তু এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি নির্দেশে তার মেয়ে আমরিন রাখির মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে সাইবার হামলা করে ওই আজকের কন্ঠ পত্রিকার পেজটি ডিজেবল করে দিয়ে তারা নিজেরা এখন ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে নিম্নমানের কন্টেন্ট দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে যেখানে দলের কার্যক্রমের চেয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত কার্যক্রম বেশি প্রচার করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকার মোহাম্মদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে তাঁর নিজস্ব বলয়ের ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেশকিছু ছেলেকে কলকাতায় এনে বিভিন্ন স্থানে রেখেছে। যাদেরকে দিয়ে মূলত দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা এবং মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে।

কলকাতায় অবস্থানরত সব শ্রেণী-পেশার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাওয়া ছিল, সকলে মিলে আলোচনা করে কীভাবে দলের এই ক্রান্তিকাল পার করা যায় তার সিদ্ধান্তে আসা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দিন নাসিমের কর্তৃত্বের লিপ্সা এবং নেত্রীর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ার সুপ্ত বাসনার কারণে মূলত দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে। তারা যতটুকু কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেটি একদমই তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে। পক্ষান্তরে নানক-নাসিমের কার্যক্রম দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ব্যাপক গ্রুপিং তৈরি করে রেখেছে।

এরমধ্যে কেবলমাত্র গতমাসে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কলকাতায় শেখ সেলিমের বাসায় দুটি মিটিং হয়েছিল কিন্তু সেসব মিটিংয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মূলত নানক-নাসিমের সরাসরি নির্দেশই অনেক নেতাকর্মী ঐ মিটিংয়ে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকে। ফলে ঐসব মিটিং থেকে দলের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শেখ হেলাল যতটুকু সম্ভব নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেনন। কিন্তু বাহাউদ্দিন নাসিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তি বলয় ছাড়া অন্য কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখেন না এবং নিজেদের স্বার্থের বাইরে কোন কিছু চিন্তা করেন না। এমনকি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জীবন বাঁচাতে আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতা-কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ অফিসার ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তারাও যখন দলীয় প্রয়োজন কিংবা নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ভারতে আসেন সেইসব নেতাকর্মীরাও নানাবিধ বিতর্কের কারণে বাহাউদ্দিন নাসিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানককে সুস্পষ্টভাবে এড়িয়ে চলেন।

নির্মম হলেও সত্য বাস্তবতা এখন এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চেয়ে উল্লেখিত দুজন নেতা কে কতটা প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসীন হতে পারেন সেটা নিয়েই মূলত প্রতিযোগিতা চলছে। আর তাদের এই অযাচিত প্রতিযোগিতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ, নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে সংঘটিত হতে পারছে না।

অপরদিকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরা কিভাবে সংঘটিত হয়ে তাকে স্বাগত জানাবে বা তার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে তা এই দুই নেতার নেতিবাচক ভূমিকার কারণে এখনো সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। হুবহু তুলে ধরা হলো!

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ !

কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে!

আপলোড সময় ০১:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ভারতের ‘দ্যা ওয়াল’এর সাথে একটি সাক্ষাৎকারে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে কিভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা হবে তার একটি ধারণা দিয়েছেন মাত্র। অথচ সেই ধারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক উদ্যোগী হয়ে কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র জনাব শেখ হেলালের বাসায় অন্তত ২০/২২ জন লোক নিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে শেখ সেলিমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে নানকের পক্ষের লোকজনরা প্রথমে শেখ হেলালের কাছে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কবির নিজেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তার সাথে থাকা লোকজনও জাহাঙ্গীর কবির নানককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার দাবি জানিয়ে ব্যাপক হট্টগোল করেন।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও কলকাতার স্থানীয় অন্তত দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জামাতের এমপি শাজাহান চৌধুরীর কাছ থেকে একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহযোগিতা এনে জাহাঙ্গীর কবির নানক সাহেবকে দিচ্ছে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।

এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর অঞ্চলের মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন মাফিয়া গ্রুপের বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী যারা জামাত এবং বিএনপির সমর্থক তাদের মাধ্যমেও ফান্ড কালেকশন করে জাহাঙ্গীর কবির নানক কলকাতায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এসব অর্থ দিয়ে মূলত কলকাতার অখ্যাত প্রথম কোলকাতাসহ অনেক পত্রিকার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ন্যারিটিভ প্রচার করানো হচ্ছে যে, ‘নেত্রীর এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না’।

কোলকাতার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর কবির নানক অন্তত ২০০ কোটি টাকা ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গেলে এই বিনিয়োগের টাকা অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে এই মুহূর্তে তারা দেশে ফিরতে রাজি নন এবং নেত্রী যাতে দেশে ফিরে না যান তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা তারা করে যাচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রাপাত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিপদসংকুল সময় যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে ভারতের কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিল। তখন সবাই চেষ্টা করেছিল কলকাতায় অবস্থানরত দলীয় হাইকমান্ড থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা যোগাযোগের ভিতর থেকে সিদ্ধান্তে আসা।

কিন্তু প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্পূর্ণ আলাদাভাবে নিজে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট নিয়ে সেখানে তাঁর বলয়ের লোকজন নিয়ে গ্রুপিং শুরু করে এবং কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে নিজের পক্ষে টানার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা করতে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে আর্থিক প্রলোভন দিয়ে বিপদগ্রস্ত অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়।

একইভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাসিমও সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিজস্ব লোকজন নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করে আলাদাভাবে নিজস্ব বলয় তৈরি করে রাখেন ।

উল্লেখিত, দুজন নেতার পরস্পর বিরোধী অবস্থানে জড়িয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেক উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি করেছেন। কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীই তাদের এই ক্যাচাল সম্পর্কে অবগত আছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিম একটি অফিস খুলে সেখানে দলীয় নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাসিম সাহেব আলাউদ্দিন নাসিমের কাছে অনেকটা ধমকের সুরে জানতে চান, আপনি এই অফিস খুলেছেন কেন? জবাবে আলাউদ্দিন নাসিম সাহেব যখন বাহাউদ্দিন নাসিমকে বলেন যে, নেত্রীর নির্দেশে আমি অফিস খুলেছি তখন বাহাউদ্দিন নাসিম চুপ করে যান।

এদিকে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দিন নাসিম দুজনই তাদের লোকদের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশসহ কলকাতায় অবস্থানরত নেতাকর্মীদের যারা তাদের বলয়ের বাইরে রয়েছে তাদেরকে শায়েস্তা করার জন্য সর্বোচ্চ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন সেই ৫ আগস্ট এর পর থেকেই।

আজ দুই বছর হতে চললেও কলকাতায় অবস্থানরত সব শ্রেণীর নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো মিটিং বা আলোচনা সভা করা সম্ভব হয়নি তাদের দুজনের পরস্পরবিরোধী কার্যক্রমের কারণে।

অনেক নেতাকর্মী বাহাউদ্দিন নাসিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাথে ফোনে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের সাথে দেখা করার ইচ্ছা পোষণ কিংবা রাজনৈতিক পরামর্শ চাইলে তারা সুকৌশলে বিভিন্ন সময়ে সেটি এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে ৫ আগস্ট এর পর থেকেই অনলাইনে কিছু উদ্যমী মুজিব সৈনিকরা ফেসবুকে ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামক একটি অনলাইন পত্রিকা পরিচালনা করে আসছিল এবং যাদের কার্যক্রমে সারা বাংলাদেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উৎসাহ পেতো। কিন্তু এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি নির্দেশে তার মেয়ে আমরিন রাখির মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে সাইবার হামলা করে ওই আজকের কন্ঠ পত্রিকার পেজটি ডিজেবল করে দিয়ে তারা নিজেরা এখন ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে নিম্নমানের কন্টেন্ট দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে যেখানে দলের কার্যক্রমের চেয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত কার্যক্রম বেশি প্রচার করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকার মোহাম্মদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে তাঁর নিজস্ব বলয়ের ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেশকিছু ছেলেকে কলকাতায় এনে বিভিন্ন স্থানে রেখেছে। যাদেরকে দিয়ে মূলত দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা এবং মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে।

কলকাতায় অবস্থানরত সব শ্রেণী-পেশার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাওয়া ছিল, সকলে মিলে আলোচনা করে কীভাবে দলের এই ক্রান্তিকাল পার করা যায় তার সিদ্ধান্তে আসা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দিন নাসিমের কর্তৃত্বের লিপ্সা এবং নেত্রীর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ার সুপ্ত বাসনার কারণে মূলত দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে। তারা যতটুকু কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেটি একদমই তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে। পক্ষান্তরে নানক-নাসিমের কার্যক্রম দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ব্যাপক গ্রুপিং তৈরি করে রেখেছে।

এরমধ্যে কেবলমাত্র গতমাসে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কলকাতায় শেখ সেলিমের বাসায় দুটি মিটিং হয়েছিল কিন্তু সেসব মিটিংয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মূলত নানক-নাসিমের সরাসরি নির্দেশই অনেক নেতাকর্মী ঐ মিটিংয়ে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকে। ফলে ঐসব মিটিং থেকে দলের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শেখ হেলাল যতটুকু সম্ভব নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেনন। কিন্তু বাহাউদ্দিন নাসিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তি বলয় ছাড়া অন্য কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখেন না এবং নিজেদের স্বার্থের বাইরে কোন কিছু চিন্তা করেন না। এমনকি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জীবন বাঁচাতে আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতা-কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ অফিসার ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তারাও যখন দলীয় প্রয়োজন কিংবা নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ভারতে আসেন সেইসব নেতাকর্মীরাও নানাবিধ বিতর্কের কারণে বাহাউদ্দিন নাসিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানককে সুস্পষ্টভাবে এড়িয়ে চলেন।

নির্মম হলেও সত্য বাস্তবতা এখন এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চেয়ে উল্লেখিত দুজন নেতা কে কতটা প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসীন হতে পারেন সেটা নিয়েই মূলত প্রতিযোগিতা চলছে। আর তাদের এই অযাচিত প্রতিযোগিতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ, নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে সংঘটিত হতে পারছে না।

অপরদিকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরা কিভাবে সংঘটিত হয়ে তাকে স্বাগত জানাবে বা তার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে তা এই দুই নেতার নেতিবাচক ভূমিকার কারণে এখনো সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। হুবহু তুলে ধরা হলো!