রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার পাবলিক টয়লেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।
‘দৈনিক সকালের সময়’-এর স্টাফ রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম শাহীন অভিযোগ করে জানান, ঘটনার সময় ওই এলাকায় দুটি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে চালকদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি দূর থেকে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় দায়িত্বরত সার্জেন্ট সাখাওয়াত হোসেন তাঁর কাছে ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর মুঠোফোনটি পুলিশ সদস্য নিজ হেফাজতে নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে তাঁকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক বক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর সাংবাদিক পরিচয় যাচাই করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলম শাহীন আরও জানান, কিছু সময় অপেক্ষার পর ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টিআই মাহবুব স্যার সিভিল পোশাকে সেখানে আসেন। তিনি সাংবাদিকের পরিচয়পত্র যাচাই করেন এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র ফেরত দেন বলে অভিযোগকারীর বক্তব্যে জানা গেছে।
এদিকে, ট্রাফিক বক্সের ভেতরে অবস্থানকালে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে উচ্চবাচ্যের শব্দ শোনা গিয়েছিল বলেও অভিযোগকারী উল্লেখ করেন। তবে ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনাটিকে আপাতত ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক। তাঁর বক্তব্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যকে আগাম দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্যের অপেক্ষা
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদককে জানানো হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—উভয়েরই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে পারস্পরিক বোঝাপড়া, পেশাগত মর্যাদা এবং আইনসম্মত আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
আনিসুর রহমান মোল্লা 




















