ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ক্র্যাবে সংবাদ সম্মেলন চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর মানচিত্র দেখার দাবি পঞ্চগড়ের রফিকুল ইসলামের যশোর সদর সাব রেজিস্ট্রার কতৃক রেলগেট প.পাড়ায় নালিশী জমির তদন্ত প্রতিবেদন পেশ হানি ট্র্যাপে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর ছেলেকে হত্যা, সুষ্ঠু বিচারের দাবি পরিবারের তালায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু খুলনায় আইজিপির সফরের মধ্যেই যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর তৃতীয় এলসিটির লঞ্চিং বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর না করলে দুর্বল মনে করে মানুষ ——— আইজিপি তালায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৫০০ অতিথির ভোজ পণ্ড, কনের অভিভাবককে জরিমানা রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ মারধর ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষরের অভিযোগ

পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ঢাকা: পদ্মা এক্সক্লুসিভ ঢাকা-চাঁদপুর প্রাইভেট লিমিটেডের চাঁদপুর অংশ দখল, চাঁদাবাজি এবং প্রতিবাদ করায় পরিচালকের মালিকানাধীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. সুমন মিজি।
শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যালয়ের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পদ্মা এক্সক্লুসিভ ঢাকা-চাঁদপুর প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক সুমন মিজি। এ সময় গাড়ির মালিক আক্তার হোসেন, সুমন মিজির দুই ছেলে মো. মেহেরাজ ইসলাম শুভ ও মো. মেহেদী হাসানসহ কোম্পানির অন্যান্য মালিক ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুমন মিজি অভিযোগ করেন, ফেরদৌস আলম বাবু ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা এক্সক্লুসিভ ঢাকা-চাঁদপুর প্রাইভেট লিমিটেডের চাঁদপুর অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাঁর দাবি, ২০২০ সাল থেকে কোম্পানির চাঁদপুর অংশ দখল করে ওই চক্র নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
সুমন মিজি বলেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়িগুলো দীর্ঘ ১৮ মাস আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গাড়িগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করলেও নতুন করে প্রতিবাদ করায় গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সেগুলোর চলাচল আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফেরদৌস আলম বাবু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁর বিরুদ্ধে অন্যায়-অবিচার, মামলা-হামলা এমনকি হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটিয়েছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সুমন মিজির দাবি, গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁর বৈধ ব্যবসায়িক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সুমন মিজি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনা দণ্ডবিধির ৩৮৪ ও ৩৮৫ ধারায় চাঁদাবাজি, ৩৪১ ও ৩৪২ ধারায় অবৈধ বাধা ও আটক এবং ৫০৬ ধারায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি তাঁর মালিকানাধীন গাড়িগুলো দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করা, কোম্পানির চাঁদপুর অংশ নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস আলম বাবু ও তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আপলোড সময় ০৯:২৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা: পদ্মা এক্সক্লুসিভ ঢাকা-চাঁদপুর প্রাইভেট লিমিটেডের চাঁদপুর অংশ দখল, চাঁদাবাজি এবং প্রতিবাদ করায় পরিচালকের মালিকানাধীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. সুমন মিজি।
শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যালয়ের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পদ্মা এক্সক্লুসিভ ঢাকা-চাঁদপুর প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক সুমন মিজি। এ সময় গাড়ির মালিক আক্তার হোসেন, সুমন মিজির দুই ছেলে মো. মেহেরাজ ইসলাম শুভ ও মো. মেহেদী হাসানসহ কোম্পানির অন্যান্য মালিক ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুমন মিজি অভিযোগ করেন, ফেরদৌস আলম বাবু ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা এক্সক্লুসিভ ঢাকা-চাঁদপুর প্রাইভেট লিমিটেডের চাঁদপুর অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাঁর দাবি, ২০২০ সাল থেকে কোম্পানির চাঁদপুর অংশ দখল করে ওই চক্র নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
সুমন মিজি বলেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়িগুলো দীর্ঘ ১৮ মাস আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গাড়িগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করলেও নতুন করে প্রতিবাদ করায় গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সেগুলোর চলাচল আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফেরদৌস আলম বাবু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁর বিরুদ্ধে অন্যায়-অবিচার, মামলা-হামলা এমনকি হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটিয়েছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সুমন মিজির দাবি, গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁর বৈধ ব্যবসায়িক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সুমন মিজি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনা দণ্ডবিধির ৩৮৪ ও ৩৮৫ ধারায় চাঁদাবাজি, ৩৪১ ও ৩৪২ ধারায় অবৈধ বাধা ও আটক এবং ৫০৬ ধারায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি তাঁর মালিকানাধীন গাড়িগুলো দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করা, কোম্পানির চাঁদপুর অংশ নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস আলম বাবু ও তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।