সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মুক্তাপুর টিলাবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ জাহেনারা বেগম তাঁর স্বামী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় নিজের ও তিন সন্তানের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

জাহেনারা বেগমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সুন্দর আলীর মেয়ে জাহেনারা বেগমের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই রাশেদুল ইসলাম রাশেদের বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। অভিযোগে তিনি বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করে কষ্টার্জিত উপার্জনের অর্থ স্বামীর কাছে পাঠান। ওই অর্থ দিয়ে জমি কিনে বসতঘর নির্মাণসহ সংসার গড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও একাধিক বিয়ের অভিযোগ ওঠে।
জাহেনারা বেগম জানান, বিষয়টির প্রতিবাদ করে তিনি নিজের ও সন্তানদের ভরণপোষণ এবং প্রবাসে উপার্জিত অর্থের হিসাব ও ফেরত দাবি করেন। এতে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, তাঁর ভাই লাভলুসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহেদা বেগমের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রতিকার চাইলে বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহেনারা বেগমের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তাঁকে ও তাঁর আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন মিথ্যা, কাল্পনিক ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এসব মামলায় আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিন সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে জাহেদা বেগমের উত্থাপিত হামলা, নির্যাতন ও একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
দেলোয়ার হোসেন খান, সিলেট থেকে 






















