ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন “নিমেষেই হারিয়ে যাওয়া এক নক্ষত্র : আবু সুফিয়ান” খুলনায় নারী ‘মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরণ’ নারীপক্ষ’র সংবাদ সম্মেলন  খুলনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই খুন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা: ওষুধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা ড. মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন কারা অধিদপ্তরে ফিরছেন এক-এগারোর আলোচিত সাবেক ডিআইজি শামসুল হায়দার সিদ্দিকী সিলেটে স্বামীর পরকীয়া ও একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় হামলা, একের পর এক মামলায় হয়রানির অভিযোগ তালায় পুলিশের অভিযানে ৫৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার রূপগঞ্জে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ শীর্ষক সেমিনার

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা: ওষুধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও নিম্নআয়ের রোগীরা—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় স্বল্প খরচে চিকিৎসার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে এলেও ওষুধের সংকট, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে বাইরে যাওয়ার অভিযোগ, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ সবসময় পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরের ফার্মেসি থেকে। একইভাবে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা হাসপাতালের ভেতরে করানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে বাইরে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালে এসেও কেন বাইরে পরীক্ষা?

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থায় যে পরীক্ষা কম খরচে বা বিনামূল্যে হওয়ার কথা, সেগুলোর কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, জনবল ও পরীক্ষা করার সক্ষমতা থাকার পরও রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোন চিকিৎসক বা কর্মচারী কোন রোগীকে কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করতে পাঠাচ্ছেন, সেই বিষয়ে নিয়মিত কোনো নজরদারি রয়েছে কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ

রোগীদের আরেকটি বড় অভিযোগ চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সব চিকিৎসক নিয়মিত ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট ইউনিটে উপস্থিত থাকেন না। কখনো বিভিন্ন অজুহাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলেও রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে চিকিৎসকদের হাজিরা রেজিস্টার, ডিউটি রোস্টার, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করা জরুরি।

দালালের দৌরাত্ম্য

হাসপাতাল চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ঢোকার পর বিভিন্ন ব্যক্তি রোগীর কাছে গিয়ে পরীক্ষা, চিকিৎসক দেখানো, বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়।

এমন অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু রোগীর অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়; সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার জন্যও বড় হুমকি।

দালালচক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক কিংবা বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন

হাসপাতালের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিচালকের ওপর। ফলে ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং দালাল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কতটা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি হিসাব, ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, ওষুধের স্টক রেজিস্টার, রোগীর অভিযোগ এবং উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র

হাসপাতালের অনিয়ম ও অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

তদন্তে অন্তত কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে—

১. হাসপাতালের ওষুধের চাহিদা, ক্রয় ও বিতরণের হিসাব।

২. স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে বাস্তব মজুদের মিল।

৩. রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করতে পাঠানোর পরিসংখ্যান।

৪. হাসপাতালের নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালুর সক্ষমতা ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার।

৫. চিকিৎসকদের হাজিরা ও ডিউটি রোস্টার?

৬. হাসপাতাল চত্বরে দালালদের উপস্থিতি ও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা।

৭. বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কোনো স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না।

৮. রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

৯. সরকারি ওষুধ রোগীদের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না।

গরিবের হাসপাতাল যদি গরিবের না থাকে

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এটি শেষ ভরসার জায়গা। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া, পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে বাধ্য হওয়া কিংবা চিকিৎসাসেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি রোগীকে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ফার্মেসি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরদারি প্রয়োজন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিচ্ছিন্ন অভিযোগ হিসেবে না দেখে প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

রোগী, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে একজন দরিদ্র রোগীকে কেন বারবার হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্রুত তদন্ত, নিয়মিত তদারকি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

খুলনা বাসীর দাবী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং দালাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। তদন্তে যদি কোনো সিন্ডিকেট বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা: ওষুধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা

আপলোড সময় ১১:৫৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও নিম্নআয়ের রোগীরা—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় স্বল্প খরচে চিকিৎসার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে এলেও ওষুধের সংকট, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে বাইরে যাওয়ার অভিযোগ, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ সবসময় পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরের ফার্মেসি থেকে। একইভাবে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা হাসপাতালের ভেতরে করানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে বাইরে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালে এসেও কেন বাইরে পরীক্ষা?

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থায় যে পরীক্ষা কম খরচে বা বিনামূল্যে হওয়ার কথা, সেগুলোর কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, জনবল ও পরীক্ষা করার সক্ষমতা থাকার পরও রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোন চিকিৎসক বা কর্মচারী কোন রোগীকে কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করতে পাঠাচ্ছেন, সেই বিষয়ে নিয়মিত কোনো নজরদারি রয়েছে কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ

রোগীদের আরেকটি বড় অভিযোগ চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সব চিকিৎসক নিয়মিত ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট ইউনিটে উপস্থিত থাকেন না। কখনো বিভিন্ন অজুহাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলেও রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে চিকিৎসকদের হাজিরা রেজিস্টার, ডিউটি রোস্টার, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করা জরুরি।

দালালের দৌরাত্ম্য

হাসপাতাল চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ঢোকার পর বিভিন্ন ব্যক্তি রোগীর কাছে গিয়ে পরীক্ষা, চিকিৎসক দেখানো, বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়।

এমন অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু রোগীর অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়; সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার জন্যও বড় হুমকি।

দালালচক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক কিংবা বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন

হাসপাতালের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিচালকের ওপর। ফলে ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং দালাল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কতটা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি হিসাব, ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, ওষুধের স্টক রেজিস্টার, রোগীর অভিযোগ এবং উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র

হাসপাতালের অনিয়ম ও অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

তদন্তে অন্তত কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে—

১. হাসপাতালের ওষুধের চাহিদা, ক্রয় ও বিতরণের হিসাব।

২. স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে বাস্তব মজুদের মিল।

৩. রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করতে পাঠানোর পরিসংখ্যান।

৪. হাসপাতালের নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালুর সক্ষমতা ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার।

৫. চিকিৎসকদের হাজিরা ও ডিউটি রোস্টার?

৬. হাসপাতাল চত্বরে দালালদের উপস্থিতি ও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা।

৭. বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কোনো স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না।

৮. রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

৯. সরকারি ওষুধ রোগীদের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না।

গরিবের হাসপাতাল যদি গরিবের না থাকে

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এটি শেষ ভরসার জায়গা। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া, পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে বাধ্য হওয়া কিংবা চিকিৎসাসেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি রোগীকে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ফার্মেসি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরদারি প্রয়োজন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিচ্ছিন্ন অভিযোগ হিসেবে না দেখে প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

রোগী, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে একজন দরিদ্র রোগীকে কেন বারবার হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্রুত তদন্ত, নিয়মিত তদারকি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

খুলনা বাসীর দাবী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং দালাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। তদন্তে যদি কোনো সিন্ডিকেট বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।