খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ চাঁদাবাজির অভিযোগে হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খান (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহরের নীলাচল আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন, ৬টি সিমকার্ড ও নগদ ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেফতার হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খান ‘বি কোম্পানির’ নাম ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট মোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান করে চাঁদা দাবি ও আদায় করত। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাত পৌঁনে ৯টার দিকে খুলনা মহানগরগোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যম হালিশহর থানার নীলাচল আবাসিক এলাকা থেকে হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খানকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৪টি মোবাইল ফোন, ৬টি সিম কার্ড ও নগদ ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড ব্যবহার করে খুলনার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে চাঁদা দাবি এবং তা না দিলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত। উদ্ধার হওয়া ডিভাইস ও সিম কার্ডের কললিস্টসহ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেফতার হাসিব খানের বিরুদ্ধে নগরীর লবণচরা, সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্র আইন, হত্যা, চুরি, মারামারি, চাঁদাবাজি ও হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।
গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আরো বলেন, শুধু একজনকে গ্রেফতার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। ‘বি কোম্পানি’ নাম ব্যবহার করে যারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কানো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অপরাধ দমনে কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।
খুলনা অফিস 













