খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী আরমান বাহিনী প্রধান আরমান হোসেন দিপুকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল সোমবার র্যাব-৬-এর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম। গ্রেফতার আরমান নগরীর মহেশ্বরপাশর মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে। সে সন্ত্রাসীদের কাছে শুটার আরমান নামে পরিচিত।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রবিবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে আরমান বাহিনী প্রধান আরমান হোসেন দিপুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান এবং ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আরমান নগরীর আড়ংঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। পরে সে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। গ্রুপটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, আরমানের নেতৃত্বে তার বাহিনী সদস্যরা খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা এবং দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকা-, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। এছাড়া তার বাহিনীর সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান গত ১৭ জুন নগরীর দৌলতপুরের একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে মামুন মোল্লা হত্যা, ২০২২ সালে মারজান মুন্না হত্যা, চলতি বছর ঘাউরা রাজিব ও যুবদল নেতা রাশু হত্যা মামলা অন্যতম। এছাড়া কালা রানা ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলাসহ কয়েকটি মামলায় সে সন্দেহভাজন আসামি।
খুলনা অফিস 






















