ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় অস্ত্র, গুলিসহ সন্ত্রাসী শুটার আরমান গ্রেফতার তালায় আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস পালিত কেসিসির ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি পাতাখালি জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-১    প্রেসিডেন্ট অর নট, হি ইস অলওয়েজ মাই আব্বু, মাই হিরো’ উৎসবের শহর ঠাকুরগাঁও: বিশাল গণসংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি বললেন ‘আমি তোমাদেরই লোক’ খুলনায় নীলয় মোটরসের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগ ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১০৪

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে “ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার দায়িত্ব পালন, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যেসব বক্তব্য ও অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা অসম্পূর্ণ তথ্য, একপাক্ষিক বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০নং ময়মনসিংহ কাচারি ২১নং ঢাকা কাচারির কানুনগো মোঃ জিয়াউল হক জিয়া বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশের ফলে আমার দায়িত্বশীলতা, পেশাগত সততা ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার অফিস অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে এবং আমি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকি না। এ বক্তব্য সঠিক নয়। একজন কানুনগোর দায়িত্ব কেবল নির্দিষ্ট একটি অফিসকক্ষে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দায়িত্বের প্রয়োজনে রেলওয়ের জমি ও সম্পত্তি সরেজমিন পরিদর্শন, রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

অতএব, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে অফিসকক্ষ বন্ধ পাওয়া গেলেই ওই সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বাস্তবসম্মত নয়। মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সরকারি দায়িত্বের পরিধি বিবেচনা না করে এ ধরনের মন্তব্য করা বিভ্রান্তিকর।

প্রতিবেদনে আমাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—“আমি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বসি। ময়মনসিংহে প্রয়োজন পড়লে যাই।” আমার বক্তব্যটি যে প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আমার ওপর একাধিক স্থান ও এলাকার ভূ-সম্পত্তি-সংক্রান্ত দায়িত্ব অর্পিত থাকলে দায়িত্বের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল ও এলাকায় উপস্থিত থাকতে হয়। ফলে দায়িত্বের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।

প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ তুলে ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—রেলওয়ের জমিতে কোনো অবৈধ দখল বা স্থাপনা সৃষ্টি হওয়া এবং তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা একজন কানুনগোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা একক এখতিয়ারের বিষয় নয়। এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

প্রতিবেদনে আমার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু স্থাপনা রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া গড়ে উঠেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন এসব স্থাপনা গড়ে ওঠার দায় সরাসরি ভূ-সম্পত্তি শাখা কিংবা আমার ওপর বর্তায়। এ উপস্থাপনাও বিভ্রান্তিকর। রেলওয়ের সম্পত্তি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। কোনো স্থাপনা অবৈধ কি না, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রেলওয়ের জমি দখল করেছে কি না—এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যক্তিবিশেষকে দায়ী করা সমীচীন নয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, প্রতিবেদনে “রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা, দখল উচ্ছেদে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই”—জাতীয় মন্তব্য করা হলেও এর সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট উচ্ছেদ মামলা, সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশ, নোটিশ কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরের লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে পাঠকের কাছে একটি একপাক্ষিক ও পূর্বনির্ধারিত ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রেলওয়ের সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালনে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও প্রচলিত দাপ্তরিক বিধিবিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে একজন সরকারি কর্মচারীর পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, সরকারি নথিপত্র, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অসত্য, অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক বক্তব্যসমূহ যথাযথভাবে সংশোধন করে প্রকৃত তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এই প্রতিবাদটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমি প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার দায়িত্ব পালন, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছি।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় অস্ত্র, গুলিসহ সন্ত্রাসী শুটার আরমান গ্রেফতার

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আপলোড সময় ০৫:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে “ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার দায়িত্ব পালন, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যেসব বক্তব্য ও অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা অসম্পূর্ণ তথ্য, একপাক্ষিক বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০নং ময়মনসিংহ কাচারি ২১নং ঢাকা কাচারির কানুনগো মোঃ জিয়াউল হক জিয়া বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশের ফলে আমার দায়িত্বশীলতা, পেশাগত সততা ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি শাখার অফিস অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে এবং আমি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকি না। এ বক্তব্য সঠিক নয়। একজন কানুনগোর দায়িত্ব কেবল নির্দিষ্ট একটি অফিসকক্ষে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দায়িত্বের প্রয়োজনে রেলওয়ের জমি ও সম্পত্তি সরেজমিন পরিদর্শন, রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

অতএব, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে অফিসকক্ষ বন্ধ পাওয়া গেলেই ওই সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বাস্তবসম্মত নয়। মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সরকারি দায়িত্বের পরিধি বিবেচনা না করে এ ধরনের মন্তব্য করা বিভ্রান্তিকর।

প্রতিবেদনে আমাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—“আমি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বসি। ময়মনসিংহে প্রয়োজন পড়লে যাই।” আমার বক্তব্যটি যে প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আমার ওপর একাধিক স্থান ও এলাকার ভূ-সম্পত্তি-সংক্রান্ত দায়িত্ব অর্পিত থাকলে দায়িত্বের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল ও এলাকায় উপস্থিত থাকতে হয়। ফলে দায়িত্বের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।

প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ তুলে ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—রেলওয়ের জমিতে কোনো অবৈধ দখল বা স্থাপনা সৃষ্টি হওয়া এবং তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা একজন কানুনগোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা একক এখতিয়ারের বিষয় নয়। এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

প্রতিবেদনে আমার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু স্থাপনা রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া গড়ে উঠেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন এসব স্থাপনা গড়ে ওঠার দায় সরাসরি ভূ-সম্পত্তি শাখা কিংবা আমার ওপর বর্তায়। এ উপস্থাপনাও বিভ্রান্তিকর। রেলওয়ের সম্পত্তি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। কোনো স্থাপনা অবৈধ কি না, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রেলওয়ের জমি দখল করেছে কি না—এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যক্তিবিশেষকে দায়ী করা সমীচীন নয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, প্রতিবেদনে “রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা, দখল উচ্ছেদে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই”—জাতীয় মন্তব্য করা হলেও এর সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট উচ্ছেদ মামলা, সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশ, নোটিশ কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরের লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে পাঠকের কাছে একটি একপাক্ষিক ও পূর্বনির্ধারিত ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রেলওয়ের সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালনে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও প্রচলিত দাপ্তরিক বিধিবিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে একজন সরকারি কর্মচারীর পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, সরকারি নথিপত্র, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অসত্য, অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক বক্তব্যসমূহ যথাযথভাবে সংশোধন করে প্রকৃত তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এই প্রতিবাদটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমি প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার দায়িত্ব পালন, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং ভূ-সম্পত্তি শাখার কার্যক্রম সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছি।