ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। নোটিশ পাওয়া অন্য দুজন হলেন একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এ পর্যন্ত কমিটির কাছে আটটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তিনজন লিখিত জবাব দিয়েছেন। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনকে আগামী ১৯ অক্টোবর লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন, সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলী এবং আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা ও সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলমের স্বাক্ষরিত নোটিশ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নোটিশ অনুযায়ী, দেলাওয়ার হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করতে মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জমা দেওয়া ভিডিও পর্যালোচনায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাঁকে ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগটির বাদী বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট মো. পয়গাম আলী।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া মসজিদে এশার নামাজ শেষে গণসংযোগের সময় দেলাওয়ার হোসেনকে বাধা ও হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে ফয়সল আমীনকেও শোকজ করা হয়। অভিযোগে যুবদল নেতা মানিক, ছাত্রদল নেতা আল-আমিন ও আলমগীরসহ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেলাওয়ারের নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন।
শনিবার ফয়সল আমীনের পক্ষে তাঁর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক লিখিত জবাব দেন। এতে অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলা হয়, নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য বিজয় বাধাগ্রস্ত ও পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে তাঁর কোনো নেতা-কর্মী এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে, বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক জুলফিকার রহমানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও পৌর যুব বিভাগের সভাপতি মো. রাজিউর রহমানের অভিযোগ, রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়েছেন ওই শিক্ষক এবং ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। আচরণবিধির ২১(ক) ও ২১(খ) বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে তাঁর জবাবের বিস্তারিত জানা যায়নি। এ বিষয়ে জুলফিকারের সরাসরি বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নোটিশ পাওয়ার কথা জানিয়ে লেখেন, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজু আলীকে নোটিশ দেওয়া হয়। লিখিত জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৫ অক্টোবর রাতে তিনি ৩৮ জন সহকর্মীর সঙ্গে কোথাও একত্রিত হননি বা ফয়সল আমীনের সঙ্গে বৈঠক করেননি। তাঁর দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত সংগঠনটির অস্তিত্ব নেই এবং কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, তাঁদের প্রচারণায় বাধা ও কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তাঁরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন। রাজিউর রহমানও শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দাবি করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাব ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসন ছেড়ে দেওয়ায় আগামী ২৯ অক্টোবর এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শ্যামলী আখতার, ঠাকুরগাঁও থেকে 























