‘আপনার প্রশ্ন ঠিক হয় নাই, এমন প্রশ্ন করতে পারেন না’ বলে তেড়ে এলেন আয়োজকরা, জায়গা মতো হাত দিতেই ফোন করে লোক আনলেন*
রাজধানীর মিরপুরের লেগুনা স্ট্যান্ড দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে *বহিরাগত ও ভাড়া করা লোক এনে* পেশাদার সাংবাদিকদের হেনস্থা করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে আয়োজকরা নিজেরাই দোষী।
আজ দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে স্টারলিং হিউম্যান হলার (লেগুনা) পরিবহনের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনা ঘটে।
বহিরাগত দিয়ে সংবাদ সম্মেলন কেন?
সাংবাদিক নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি বৈধ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনে বহিরাগত, অশিক্ষিত ও উশৃঙ্খল লোকজন কেন থাকবে? প্রকৃত মালিক-শ্রমিকরা কখনো সাংবাদিককে ভয় দেখায় না।
*বহিরাগত দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করানো মানেই নিজেকে দোষী প্রমাণ করা।* কারণ যার কাগজ ঠিক আছে, যার বক্তব্য সত্য, তার বহিরাগত লাগে না। বহিরাগত লাগে তখনই, যখন সত্য ঢাকতে পেশীশক্তি দেখাতে হয়। আজকের সংবাদ সম্মেলনে সেটাই হয়েছে।
যে প্রশ্নে তারা ধরা খেয়ে গেল:
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, যখন একজন পেশাদার সাংবাদিক, যিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (DUJ)-এর সদস্য এবং PID স্বীকৃত সরকার অনুমোদিত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, আজকের লিখিত বক্তব্য থেকে ৩টি মোক্ষম প্রশ্ন করেন —
১. ইয়াকুব আলী মানি রসিদসহ আটকের ভিডিও ও রসিদ কোথায়?
২. ৫টি স্ট্যান্ডের বৈধ ইজারার কাগজ কার নামে?
৩. গাড়ি প্রতি ৩০০ টাকা চাঁদার টাকা কার পকেটে যায়?
ঠিক তখনই তিনি *জায়গা মতো হাত দিয়ে ফেলেন।* আর জায়গা মতো হাত দিতেই মঞ্চে থাকা একজন *মোবাইল ফোনে কন্টাক্ট করে বাইরে থেকে লোক ডেকে আনেন।*
এরপরই শুরু হয় নজিরবিহীন হেনস্থা। আয়োজকদের সাথে আসা বহিরাগতরা সাংবাদিককে ঘিরে ধরে চিৎকার করে বলেন:
> “আপনার প্রশ্নগুলো ঠিক হয় নাই, আপনি এমন ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন না।”
> “আপনার কি কোনো অ্যাসাইনমেন্ট আছে? আপনি কেন আসছেন? প্রশ্ন করবেন কেন?”
> “আপনি আমাকে চিনেন কিনা? আমি কে জানেন?”
> “আপনার আত্মা উঠবি কি করে?”
প্রশ্ন পর্ব শেষ হওয়ার সাথে সাথে তারা এমনভাবে তেড়ে আসেন *যেন সাংবাদিককে খেয়ে ফেলবে।*
আইন কী বলে?
PID আইন ও প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, সরকার অনুমোদিত সংবাদপত্রের স্টাফ রিপোর্টারকে “অ্যাসাইনমেন্ট আছে?” বা “প্রশ্ন করতে পারেন না” — এ ধরনের কথা বলার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলন মানেই প্রশ্ন। সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে সাংবাদিকের প্রশ্ন করার অধিকার সুরক্ষিত। সাংবাদিককে ভয় দেখানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন অভিযোগ করেছিল, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাজুর লোকজন ৫টি স্ট্যান্ড দখল করেছে। আর আজকের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইয়াকুব আলীই বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তুলতে গিয়ে রসিদসহ ধরা পড়েন।
পাল্টাপাল্টি এই সংবাদ সম্মেলনে বহিরাগতদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, পুরো বিষয়টি এখন চাঁদাবাজি ও দখলের খেলা, যেখানে সাধারণ শ্রমিকরা জিম্মি। এই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের অনুসন্ধানী রিপোর্ট চলবে ।
আনিসুর রহমান মোল্লা 





















